স্টাফ রিপোর্টার:
সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই লন্ডন প্রবাসী আকিক মিয়া আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব বুধরাইল গ্রামের নুরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বলেন লন্ডন প্রবাসী আকিক মিয়ার পিতা ছাবরু মিয়া একজন পরধন লোভী ব্যক্তি ছিলেন। ছাবরু মিয়া তার ভাই ফুরকান মিয়ার জায়গা জমি দখলে নিয়ে কাগজপত্র করে নেন। ছাবরু মিয়া তিনটি বিবাহ রয়েছে। তৃতীয় বিবাহের সন্তানদেরকে ১০ কেদার জমি দলিল করে দেন। এনিয়ে লন্ডন প্রবাসী আকিক মিয়া ও তার সৎ ভাই হাবিবুর রহমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর হাবিবুর রহমান ও তার বোন রাহিমা বেগম তাদের ১০ কেদার জমি আমাদেরকে বর্গা চাষ করার জন্য দিয়ে দেন। এর পর থেকে লন্ডন প্রবাসী আকিক মিয়া ও তার সহযোগীরা আমাদেরকে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। বর্তমানে আকিক মিয়ার সহায় সম্পত্তি তার বোন জামাই পাটলী গ্রামের লন্ডন প্রবাসী হাফিজুর রহমানের ভাগনা খোকন মিয়া দেখা শুনা করে আসছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডন প্রবাসী আকিক মিয়া পূর্ব পরিকল্পনা করে দেশে আসেন। দেশে আসার আগে বাংলাদেশ হাই কমিশনার এবং দেশে এসে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ সিলেট বরাবরে তাকে হুমকি ধামকী ও তার বাড়িঘর চুরির ঘটনা উল্লেখ করে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে এর কোন সত্যতা পায়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আকিক মিয়ার দেশে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান নেছাফর মিয়া ও তার সহযোগীদের দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। তাদের দায়ের করা এ পর্যন্ত ৫ টি মামলা থেকে আদালত আমাদেরকে খালাস দিয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর রাত ১ টায় আকিক মিয়া ও তার সহযোগী আকবুল হোসেন গংরা আমাদের বাড়িঘর দখল করতে গেলে এসময় তাদের হামলায় রাহিন মিয়া উরফে রহিম মিয়া ও নজরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। এঘটনায় থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর সুনামগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এফআইআর করার জন্য জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসিকে আদেশ দেন। থানায় মামলাটি রুজু হলেও আকিক মিয়া প্রভাব কাটিয়ে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি মিথ্যা বলে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। আমি চুড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আদালতে একটি নারাজী দাখিল করি। আদালত মামলা পুন: তদন্তের জন্য পিবিআই সিলেটকে তদন্তের আদেশ দেন। আমার একটি জিআর ৯৪/২০২০ মামলায় আকিক মিয়ার পক্ষের কামাল মিয়া, দবির মিয়া ও ছোটন মিয়াকে আদালত ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। নুরুল ইসলাম ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পিবিআই সহ বাংলাদেশ সরকারের নিকট আবেদন জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাহিন মিয়া, মো. মুহিবুর রহমান, মো. শরীফ উদ্দিন, মো. সুমিম আহমদ, মো. গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।