143

নিজস্ব প্রতিবেদক

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা কোনোভাবেই থামছে না। এবার বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ নেওয়ার একটি কাল্পনিক দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে নিবিড় অনুসন্ধানের পর এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শনাক্ত করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’।

​সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু চক্র দাবি করতে শুরু করে যে, সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর নাকি এক বক্তব্যে বলেছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এই স্পর্শকাতর দাবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়।

​কিন্তু রিউমার স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, লুৎফুজ্জামান বাবর কোনো অবস্থাতেই এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং তার নামে প্রচারিত এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সাধারণত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বা রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো নেতার বক্তব্য থাকলে তা মূলধারার গণমাধ্যমে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো অডিও, ভিডিও, নির্ভরযোগ্য সংবাদ বা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপটের হদিস পাওয়া যায়নি।

​কীভাবে ছড়ানো হলো এই বিভ্রান্তি?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই একই গুজব কিছুদিন আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামেও ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় যাচাই করে দেখা যায় যে, জামায়াত আমিরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

​প্রকৃতপক্ষে, ডা. শফিকুর রহমান তার এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন যে, ‘এস আলম গ্রুপ’ ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। সেই বক্তব্যটিকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিকৃত করে, তথ্যের অঙ্ক বদলে (৮২ হাজার থেকে ৮৩ হাজার কোটি) এবং বক্তার নাম পরিবর্তন করে প্রথমে জামায়াত আমির এবং পরবর্তীতে লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে এই নোংরা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

​রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং ব্যাংকিং খাতের সমীকরণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতেই এই ধরণের বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানো এই গুজবের ওপর কড়া নজর রাখছে আমাদের বিশেষ আইটি টিম।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *