• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম:
উন্নয়নের মানচিত্রে রংপুর কি তার ন্যায্য অবস্থান পাচ্ছে? বটিয়াঘাটা ​কুটিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ: নতুন কমিটি গঠন গোয়াইনঘাটে নিউ স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন সিংগাইর পৌরবাজারে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাঠের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট,৭ দোকানে জরিমানা নো বাজেট, নো কর” স্লোগান ঘিরে আলোচনা: আঞ্চলিক বঞ্চনার প্রশ্ন আবারও সামনে কবিতা: ঐতিহ্য ঘেরা বাঙালী কবিতা: নামাজ মাঠে অনন্য জাইমা রহমান: বাঁ পায়ের দুর্দান্ত গোলে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ​‘মেসির কথা বললে হার্টবিট বেড়ে যায়’: আজীবন আর্জেন্টিনার সমর্থক থাকার ঘোষণা পরীমনির তরুণীকে নিয়ে ঘটনার বর্ণনায় নতুন প্রশ্ন, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বগুড়ায় দুই ছেলে ও বংশের নামে তিন ইউনিয়ন! সংসদে প্রতিমন্ত্রীর দাবি— ‘সবই কাকতালীয়’

Sabit Rizwan / ৬ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

সংসদীয় প্রতিবেদক

​বগুড়ায় নতুন গঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। নবঘোষিত তিনটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব বংশ এবং তার দুই ছেলের নামের সাথে হুবহু মিলে যাওয়ায় খোদ জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে এই বিতর্ককে পুরোপুরি ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

​গত সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা চলাকালীন এই গুরুতর বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম। তিনি সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় নতুন গঠিত একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে তার পারিবারিক বংশের নামে ‘মীরবাড়ী’। এছাড়া আরও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর দুই সন্তান— দিগন্ত ও সীমান্তের নামানুসারে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মনে করিয়ে দেন যে, পরিবারের সদস্যদের নামে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে অতীতে ক্ষমতার জোরে নাম পরিবর্তনের যে নেতিবাচক সংস্কৃতি ছিল, তা আবারও ফিরে আসছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

​প্রতিমন্ত্রীর আত্মপক্ষ সমর্থন ও রসিকতা

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে দাঁড়িয়ে এই সব অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেন, সন্তানদের নাম দেখে নয়, বরং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করেই ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

​প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি অনুযায়ী, নতুন গঠিত একটি এলাকা গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’। অন্যদিকে গাইবান্ধার কাছাকাছি একটি দূরবর্তী এলাকার নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’।

​নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংসদে কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন,

​”দেশের বিভিন্ন জায়গায় সীমান্ত ও দিগন্ত নামে অনেক স্থাপনা আছে। কাকতালীয়ভাবে আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল আছে। আল্লাহ বাঁচাইছে যে মাননীয় সংসদ সদস্য বলেননি বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড বা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি আমার, কিংবা গুলশানের দিগন্ত টাওয়ারও আমার!”

​তার এই মন্তব্যের পর সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে সমর্থন জানান।

​নেপথ্য ঘটনা

সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন কাঠামো দাঁড় করানো হয়। এই নতুন কাঠামোর অধীনেই ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’, ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’ গঠন করা হয়। রোববার গেজেট প্রকাশের পর থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে ও বংশের নামের সাথে তিনটি ইউনিয়নের নামের এই অদ্ভুত মিল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd