লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম

আমেরিকা একটা মহাদেশ, তার রাষ্ট্র সংখ্যা প্রায় ৩৫ টা, আমেরিকা নিজে সবার উপরে ধনী ও জ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নত! আমেরিকা সারা বিশ্বে তার নিয়ন্ত্রণ চায় এইটাই হচ্ছে বিশ্বে অশান্তির কারন! আমেরিকার কেউ আপন না, যাকে যখন কাজে লাগে সে দেশ তখন তার বন্ধু। তার বন্ধুত্ব ও শত্রুতা স্হায়ী না, শুধু স্বার্থ স্হায়ী এমন কথাটা বলেছিলেন মার্কিন একসময়কার বিদেশ মন্ত্রী “হেনরি কিসিঞ্জার!”

বিশ্বের সব দেশের শাসক গুলো মার্কিন কথায় নাচতে শুরু করে আবার ছুড়ে মারলে ডাস্টবিনে অবস্থান নেয়! আমি একজন বাঙালি বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা টা শুরু করি!
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল আমেরিকা কে চ্যালেঞ্জ করে। তারা বাংলাদেশের স্থপতির সাথে সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলো “সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বিনিময়ে!” এই দেশের জাতির জনক “মুজিব” তা গ্রহন করেন নাই! তাকে মরতে হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীনতায় যে-সব দেশ জড়িত ছিলো তাদের মরতে হয়েছে অথবা দেশ ভেঙে তছনছ করেছে। ভারতের ইন্দিরা মরেছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫/১৬ টুকরো করেছে, যুগোস্লাভিয়া ভেঙে ৬ টুকরো করেছে, WARS জোটের সব দেশের সে-ই সব শাসককে চরম মূল্য দিতে হয়েছে!

দুঃখজনক হলে-ও সত্য, এসব হিসাব কিতাব বাংলাদেশ স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তিরা মাথায় রাখেন নাই। মার্কিন শাসক জো বাইডেন যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সেলফি তোলেন তিনি ভাবে গদগদ হয়ে নিজ দেশে ফিরে নিশ্চিন্তে ঘুম দেন! তার বিরুদ্ধে শত মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা হচ্ছে তা তিনি তোয়াক্কা করেন না, ভাব খানা যেন এমন, আমেরিকা আছে না?

ভারতের নরেন্দ্র মোদি কে যখন ২৫% ট্যারিফ যোগ করে, ভারত কে নরককুণ্ড বলা হয় তখন তিনি দাড়ি চুলকান, “কি হলো, ক্ষমতায় এসেই বন্ধু বললেন আজ কেন নরককুণ্ড হয়ে গেলাম? তিনি যখন চীন সফর করেন, তখন মার্কিন শাসক আসল সত্য বুঝতে পারেন,” চীন-ভারত রাশিয়া –
এশিয়ায় যাই বুঝি ফাঁসিয়া!” তাড়াতাড়ি মোদি বাবুকে জাতিসংঘের স্হায়ী সদস্য ও ভেটো পাওয়ার ঘুষ দিয়ে সাইজ করেন, আগেই তাকে কোয়াডের চেয়ারম্যান করা আছে! মোদি বাবু ভুলে যান প্রতিবেশী কে, আমেরিকা বাংলাদেশে Regime Change করে তাকে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান আমলের মত বেকায়দায় ফেলেছেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন না!

আমেরিকা ইরানের কাছে পেনাল্টি গোল খেয়ে এবং চীনের দ্বারস্থ হওয়ার পর চরম অপমান হয়ে ২৩শে মে তার বিদেশ মন্ত্রী মার্ক রুবিও কে পাঠিয়েছেন “ভারত যা চায় তাই দেবো” স্লোগান নিয়ে! কেন এত তাড়াতাড়ি নরককুণ্ড স্বর্গে পরিনত হলো? ইরান আমেরিকা মধ্যস্হতায় তো বিশ্বের দ্বিতীয় গনতান্ত্রিক দেশ যে ভারতকে ইংল্যান্ডের পর আন্তর্জাতিক ভাবে পৌর নীতির ভাষায় গোণা হয় তাকে না লাগিয়ে পাকিস্তানের “জেনারেল আসিফ মুনির” কে লাগিয়েছেন!
কারন কি, আসিফ মুনিরের বোগলে সামরিক লাঠি গোঁজা দেখে ইরান ভয় পাবে!
ভারত কে এত অপমান করার পরেও ভারত সরকার একবার ও কি বুঝতে পেরেছেন “ইনহাস্ত ওয়াতানাম”, রাশিয়া চীন ভারত এক-এক সাথে থাকলে আমেরিকার বুকের জল শুকিয়ে যায়? আমার এইটাই নিজ দেশ, ইসরায়েল কে যতই ফাদার কান্ট্রি বলেন তাতে কোন দেশের পিতৃ দেশ তৈরি হয় না!

কেন মার্ক রুবি ও, হঠাৎ এসে ভারতকে তোয়াজ? কারন চীন কে আটকাতে — মিয়ানমার পথ টা বন্ধ করতে হবে। পাকিস্তান এই কাজটা করতে পারবে না!
বাংলাদেশে বসতে পারলে তখন সেভেন সিস্টার্স আলাদা করা, চিকেন নেক কাউকে দিয়ে দখল করা, পরে দেখা যাবে ক্ষণ!
কিন্তু নিজেকে unpredictable ঘোষণা করা ট্রাম্প সাহেব মার্ক রুবি ও ডোবাল আলোচনায় সামরিক সরঞ্জাম, গোয়েন্দা ইনফরমেশন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহায়তা এসব ভুলে যান না! বাংলাদেশ টা যে প্রশান্ত মহাসাগরের ১১ কিলোমিটার গভীর মারিয়া না ট্রেন্সে ডুবে গেছে তার বিষয় কি হলো?
উদ্দেশ্য যদি হয় ভারতকে চীন রাশিয়া থেকে দূরে রেখে মিয়ানমার পাহারা দিতে ভারতকে ব্যবহার তাহলে সরি মিঃ নরেন্দ্র মোদি বাবু, আপনাকে আরো ভাবা উচিত! চীন রাশিয়া ইরান আপনার আসল বন্ধু, আমেরিকা নয়!
প্রয়োজনে প্রিয়জন কখনওই আসল প্রিয়জন হয় না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *