
কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ
বাংলাদেশ আজ কী পেল অর্জন?
চারিদিকে শুধু পৈশাচিক ধর্ষণ!
চোখে ঝরে যেন ক্লান্তিহীন অশ্রু-বর্ষণ,
চায় সমাজ আজ এই কুলাঙ্গারের বর্জন।
তাকে পশু বললে পশুও যে হয় নিচু,
বিকৃত মগজে কামনার নগ্ন পিছু।
অসুস্থ হৃদয়ের ওই নোংরা থাবায়-
বলৎকারে ডুকরে কাঁদে অবুঝ শিশু।
সে তো হায়েনা! সে তো এক নরপিশাচ,
অন্যায় সয়ে নিশ্চুপ বোবা এই সমাজ।
মানো না পর্দা, বোঝো না সমাজের লাজ,
তাই তো ভুলুণ্ঠিত নারীর ইজ্জত আজ।
বিবেকহীন মনে শুধু আদিম সম্ভোগ,
পাপের নেশায় তাই গোপনে খোঁজে সুযোগ।
আজ পুরো দেশ শঙ্কিত ও আতঙ্কিত,
লুণ্ঠিত অধিকার, মানবতা পদদলিত!
অন্তর যেন তাদের কালো কালিয়ার শান,
নর্দমার কীট হৃদয়ে হিংস্র আগুয়ান।
পশুর চেয়েও অধম তাদের জান!
লিপ্সায় ভরা এই নরপিশাচের নেই মান।
ধর্ষকের কলুষিত নিঃশ্বাসে নেই তো বিশ্বাস,
এই পাপাচারের মুক্তি পেতে চাই মহানের আশ্বাস।
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা দুর্নীতি করে রাজ,
ভুক্তভোগী পায় না সঠিক বিচার আজ।
ধর্ষকের পক্ষে যে করে লড়াই,
শাস্তির আওতায় তাকেও আনতে চাই।
সে তো উন্মাদ, সে মানুষখেকো,
প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তি তার জন্য রেখো।
এহেন কর্মকান্ড আনে সভ্যতার অধঃপতন,
সকলেই আওয়াজ তোলো প্রতিবাদী গর্জন।
লোক দেখানো নয়, চাই ন্যায় গণজাগরণ,
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিষ্পেষিত হবে কু আচরণ।
ছোট-বড় আজ কিছু মানে না, বোঝে না বয়সের সীমা,
পাপের সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে নৈতিকতার প্রতিমা।
স্বজন-কুজন কিছুই দেখে না, চেনে না রক্তের টান,
কামনার অন্ধ লিপ্সায় করে পবিত্রতার বলিদান।
সম্পর্কের বাঁধ ভেঙে চুরমার, বিকৃত কামনার ঘোরে,
পশুত্ব আজ উল্লাস করে পৈশাচিক রূপ ধরে।
এই নরপশুদের ক্ষমা নেই আর, নেই কোনো দয়া-মায়া,
মুক্ত করবো এই সমাজ থেকে কলুষিত কালো ছায়া।
ভেঙে পড়েছে সমাজ ব্যবস্থা, হারিয়েছে আজ নীতি,
বিচারহীনতার এই চাদরে বাড়ছে শুধু ভীতি।
গণধর্ষণের করাল গ্রাসে মানবতা আজ শেষ,
নীরব আর্তনাদে কাঁপছে যেন সোনার বাংলাদেশ।
সোশ্যাল মিডিয়া, পত্র-পত্রিকা-যেদিকে তাকাই চোখ,
একই খবরে ভারী বাতাস, বাড়ছে কেবল শোক।
কলিজা কাঁপে শিউরে ওঠে, এ কেমন বর্বরতা!
মানুষের বেশে পশুরা মেটায় আদিম হিংস্রতা।
চরিত্রে নাকি লেগেছে দাগ? সমাজ তোলে প্রশ্ন,
অপরাধীর চেয়ে ভুক্তভোগীর জীবন করে নষ্ট!
“কে করবে সে মেয়েকে বিয়ে?”-এমন নোংরা বাণী,
চোখ রাঙিয়ে আড়াল করে নরপিশাচের গ্লানি।
আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট আজ মেয়ের চোখে-মুখে,
তবুও কেন সমাজ মোদের পাথর মারে বুকে?
ঘৃণ্য সে কাজ, ঘৃণিত সে জন, ধিক্কার জানাই তারে-
রুখতে হবে এই পাপাচার যদি যাই গো মরে।
দিন দিন বাড়ছে নারী-শিশু ধর্ষণের সংখ্যা,
জনমনে আতংক লোকলজ্জার শঙ্কা।
সমাজ সুস্থ রাখতে গড়ে তুলো ঐক্য,
ধর্ষণের বিচার হতে হবে দ্রুত ও নিরপেক্ষ।
এই বর্বর নৃশংস নিপীড়ন করো নিঃশেষ,
ধর্ষণ মুক্ত হোক আমাদের বাংলাদেশ।
দাও মানবতার ডাক, শুনবো না আহাজারি,
নিরাপদ নারী ব্যবস্থায় সুন্দর দেশ গড়ি।
