মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত রেলকোচ প্রস্তুতের কাজ জোরেশোরে চলছে। ঈদের সময় ট্রেনে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় সেই চাপ সামাল দিতে পুরোনো কোচ মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দেশের দুই প্রধান রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুর ও পাহাড়তলীতে মোট ২৫১টি কোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এবার ১২৭টি কোচ মেরামতের কাজ চলছে। গত ঈদুল ফিতরে যেখানে ১০৬টি কোচ রেল বহরে যুক্ত হয়েছিল, সেখানে এবার বাড়তি ২১টি কোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৯৯টি কোচ ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ২৮টির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে সেগুলোও হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
কারখানায় দেখা গেছে, কোচগুলোর বগি মেরামত, রঙ করা, যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা, আসন বিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ একসঙ্গে চলছে। শ্রমিকরা কেউ ওয়েল্ডিং, কেউ রঙ কিংবা ধোয়ামোছার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, ঈদ উপলক্ষে চিলাহাটি, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে এসব কোচ যুক্ত করা হবে। বিশেষ ট্রেনেও অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে, যাতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমে।
তবে বিশাল এই কার্যক্রম পরিচালনায় জনবল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই হাজার ৮৫৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৬৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রেল কারখানার কার্যক্রম।
কারখানার শিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা সহজ করতে শ্রমিক-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাতেও অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে ১২৪টি বগি মেরামতের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৯৯টি বগির কাজ শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে পরিবহন বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা আশা করছেন, সময়মতো অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা গেলে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং ঘরে ফেরা হবে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *