স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিকে অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ঘুষের প্রস্তাব এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে চাল বিতরণের সময় প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে একজন ব্যক্তি একাই ৩৫টি কার্ডের বিপরীতে প্রায় ৩৫০ কেজি চাল গ্রহণ করে নিয়ে যান।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ভিজিএফ সুবিধাভোগীদের স্বশরীরে উপস্থিত থেকে চাল গ্রহণ করার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিতরণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী গ্রামপুলিশ আইনুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে অনেক বস্তা নিতে দেখে আমার সন্দেহ হয়। জিজ্ঞেস করলে ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানের লোক এবং চেয়ারম্যান ৩৫টি পরিবারের কার্ড দিয়েছেন, তারা না আসায় তিনি চাল নিয়ে যাচ্ছেন।”
ঘটনার আরও চাঞ্চল্যকর দিক হলো, অভিযোগ উঠেছে যে অনিয়মের বিষয়টি চেপে যেতে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সাত্তারের প্রতিনিধি মো. সাইফুল্লাহকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এমপি প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ দাবি করেন, “এমপি মহোদয়ের নির্দেশে আমি বিতরণ পরিস্থিতি তদারকি করতে যাই। সেখানে ছোট-বড় নানা অনিয়ম চোখে পড়ে। আমি প্রতিবাদ জানালে আমাকে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকার বিনিময়ে ২০ বস্তা চাল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, জনরোষ এড়াতে ওইদিন বিকেল ৪টার আগেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়। পরে পরিষদে তালা ঝুলিয়ে সংশ্লিষ্টরা স্থান ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি বিধি অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলিত রাখার নিয়ম থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া লেবার ও পরিবহন খরচের অজুহাতে আরও ৪৫ বস্তা চাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ আমাকে কিছু বলেনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম।
চাল বিতরণ তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “ভিজিএফ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। জাতীয় পতাকা নামানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ অনিয়ম করার সাহস না পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *