
ব্যুরো প্রধান খুলনা:
সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত সদস্য অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে তারা ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দেন। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ, র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের চাপের মুখে গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট সুমন বাহিনী অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা হলেন— মোংলার সুমন হাওলাদার, রবিউল মল্লিক, রফিক শেখ, সিদ্দিক হাওলাদার, গোলাম মল্লিক, ইসমাইল খান এবং রামপালের মাহফুজ মল্লিক।
বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, “২০১৮ সালে একবার আত্মসমর্পণের পর ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভালোই চলছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হামলা-মামলা ও নানা পরিস্থিতির কারণে আবারও এই পথে জড়িয়ে পড়ি। এবার সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করেছি। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো সহজীকরণ এবং ভবিষ্যতে হয়রানি না হওয়ার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
