নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম প্রাণপুরুষ আব্বাসউদ্দিন একদিকে মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলেন, অপরদিকে একটি আলোকিত পরিবার গড়ে তোলেন। সে পরম্পরায় সর্বজনবিদিত লোকসংগীত শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে লোকসংগীতকে বেছে নেন। তিনি নিজে গান করেছেন এবং লোকগানকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে দীর্ঘসময় ধরে প্রচারকার্য চালিয়েছেন। লোকসংগীত শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসীর ভাবমূর্তি আমাদের সবার জানা। তিনি যে একজন বড় মাপের লেখক ও গবেষক, সে বিষয়ে আমাদের অনেকের ধারণা সীমিত। তিনি ছোট-বড় প্রায় অর্ধ শতক গ্রন্থের প্রণেতা। একজন সুকণ্ঠ গায়ক এবং একজন প্রলেফিক লেখক উভয় ভাবমূর্তি নিয়েই মুস্তাফা জামান আব্বাসীর পূর্ণাঙ্গ পরিচয়। তিনি সম্পূর্ণ একক চেষ্টায় লোকসংগীত নিয়ে যে মানের ও পরিমাণের কাজ করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় যৌথভাবে বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলি তা করতে সক্ষম হয়নি। বাংলার লোকসংগীতে মুস্তাফা জামান আব্বাসীর অবদান অতুলনীয়। মুস্তাফা জামান আব্বাসীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদ ও ইন্টেলেকচুয়াল রিসার্চ সেন্টার (আইআরসি)-এর যৌথ আয়োজনে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে বিশিষ্ট সাহিত্যিক, লোক গবেষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমদ এসব কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেশবরেণ্য সংগীতজ্ঞ শেখ সাদী খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সঙ্গীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, লেখক ও গবেষক অনুপম হায়াৎ, গীতিকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত কবি জাকির আবু জাফর এবং সঙ্গীতশিল্পী ও লেখক শারমিনী আব্বাসী প্রমুখ। ইন্টেলেকচুয়াল রিচার্স সেন্টার (আইআরসি)-এর সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি সীমান্ত আকরাম। অনুষ্ঠানে মুস্তাফা জামান আব্বাসীকে স্মরণ করে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবু বকর সিদ্দিক ও শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ ও সীমা ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে রঞ্জন মল্লিক নির্মিত ‘ভাওয়াইয়া শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী’ শিরোনামে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।