
নিজস্ব প্রতিবেদক
(ছবি: সংগৃহীত)
সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তিদের ভাষা ও আচরণের সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো পদাধিকারী ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ করতে পারেন না। এমন কাজ সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) একটি মামলার রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা তাঁর পর্যবেক্ষণে এই মন্তব্য করেন।
কী বলেছেন আদালত?
বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, সরকারি উচ্চপদে থাকা ব্যক্তি হোন বা সাধারণ নাগরিক—কেউই বক্তৃতা, মিম, কার্টুন বা কোনো ভিজ্যুয়াল আর্টের মাধ্যমে কোনো সম্প্রদায়কে অপমান করতে পারেন না। তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, উচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিরা সংবিধান রক্ষা করার শপথ নেন, তাই তাঁদের দায়িত্ব আরও বেশি।
বিবাদের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি বিখ্যাত পরিচালক নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত একটি চলচ্চিত্রের নাম ঘিরে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ছবির নাম একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক। মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে নির্মাতা নাম পরিবর্তনে রাজি হন। সেই মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশের সময়ই বিচারপতি ভূঞা তাঁর এই পৃথক পর্যবেক্ষণটি তুলে ধরেন।
ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংবিধানিক ধর্ম
রায়ে দেশের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে আদালত জানান, জাতি, ধর্ম বা ভাষা নির্বিশেষে সকল সহ-নাগরিককে সম্মান করাই হলো আসল ‘সাংবিধানিক ধর্ম’। প্রতিটি নাগরিকের এই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন আদালত।
