নিজস্ব প্রতিবেদক
পিলখানায় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্ণ হলো। এই শোকাবহ দিনটিকে ‘জাতীয় সেনা দিবস’ হিসেবে পালনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পিলখানায় শাহাদতবরণকারী সেনা কর্মকর্তাদের কবরে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বনানীতে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ও মোনাজাত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে তাঁদের বীরত্বগাথা স্মরণ করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এরপর তাঁরা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্য বিকেলে শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “পিলখানার ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন দেশপ্রেমিককে আমরা হারিয়েছি। প্রতিটি সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু আসলে একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য। গত ১৭ বছর আপনারা বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু সেই নিদারুণ যন্ত্রণা কেউ লাঘব করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের সরকার সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেবে।”
নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় নতুন অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “পিলখানার ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের এক গভীর অপপ্রয়াস। এই ঘটনার পর আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর যে দুর্বলতা ফুটে উঠেছে, তা দূর করতে আমরা কাজ করছি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও সুসংহত ও আধুনিক করা হবে।”
শহিদ পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা শহিদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার শহিদদের এই সর্বোচ্চ ত্যাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিজিবি মহাপরিচালক এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।