
কলকাতা প্রতিনিধি
(ছবি: সংগৃহীত)
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন মাত্রা যোগ করল মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’ ইস্যু। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এই মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ৫০ শতাংশেরও বেশি আসছে বাংলাদেশ থেকে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কলকাতায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ও বর্তমান ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবিরের দিকে।
শুভেন্দুর অভিযোগ: বাংলাদেশ সংযোগ ও জামায়াত লিংকিং
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে হুমায়ুন কবির টানা এক সপ্তাহ বাংলাদেশে ছিলেন। তিনি জামায়াতের ঘনিষ্ঠ শক্তির মাধ্যমে সেখান থেকে বিশাল অংকের অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে ওপার বাংলা থেকে।” শুভেন্দুর মতে, হুমায়ুন কবির আসলে তৃণমূল এবং ওপার বাংলার উগ্রবাদী শক্তির মধ্যে এক মেলবন্ধন বা সেতু হিসেবে কাজ করছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের।
হুমায়ুনের পাল্টা জবাব: ‘শুভেন্দু পাগল হয়ে গেছেন’
শুভেন্দু অধিকারীর এমন অভিযোগের পর রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়েছেন হুমায়ুন কবির। নিজের বাংলাদেশ সফরের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ দিন বাংলাদেশে ছিলাম। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে আমি আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার অধিকার আমার আছে।”
শুভেন্দুর অভিযোগকে ‘পাগলের প্রলাপ’ আখ্যা দিয়ে হুমায়ুন কবির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “শুভেন্দু যদি মনে করেন বাইরে থেকে অবৈধ টাকা এসেছে, তবে কেন্দ্রের ইডি বা সিবিআই দিয়ে তদন্ত করান। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তো ওনাদের হাতেই। প্রমাণ করতে না পারলে এসব ভিত্তিহীন কথা বলা বন্ধ করা উচিত।” তিনি আরও দাবি করেন, ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে টাকা আসা অসম্ভব।
রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হুমায়ুন কবির। তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে এই মসজিদ নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক বির্তক চলছে। একদিকে বিজেপি একে ‘তৃণমূলের তোষণ নীতি’ বলে আক্রমণ করছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরের নতুন দল সংখ্যালঘু ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছে। আগামী এপ্রিলে হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে এই বাবরি মসজিদ ইস্যু যে বড় প্রভাব ফেলবে, শুভেন্দু-হুমায়ুনের এই বাগযুদ্ধ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
