নিজস্ব প্রতিবেদক
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে তাঁর প্রথম ভাষণে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ এবং মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলীয় প্রভাব নয় বরং আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
জননিরাপত্তা ও সিন্ডিকেট নির্মূলই অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, “হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করব। প্রতিটি নাগরিকের জন্য এই দেশকে নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।” বিশেষ করে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রমজানে ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া বার্তা
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “রমজানকে যেন অধিক মুনাফা লাভের মাস হিসেবে গণ্য করা না হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে।” সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, অনাচার ও অনিয়মের কোনো সিন্ডিকেট এই সরকার বরদাশত করবে না।
এমপিদের জন্য কৃচ্ছ্রতাসাধনের নতুন দৃষ্টান্ত
রাষ্ট্রীয় অপচয় রোধে নিজের দলের এমপিদের মাধ্যমেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা করেন, “বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধাও নেবেন না।” মহানবীর (সা.) ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিকল্পনা
ঢাকার যানজট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, রেল যোগাযোগ উন্নত করা গেলে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং মানুষ নিজ জেলা থেকেই অফিস-আদালত করতে পারবে।
যুবশক্তির প্রতি আহ্বান: ‘জনসংখ্যাই হবে জনসম্পদ’
যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে হলে আমাদের দক্ষ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত।” ১৮ বছর পর দেশে ফিরে তাঁর দেওয়া ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখন শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “দলমত, ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনি বিএনপিকে ভোট দিন বা না দিন, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার এবং আমার অধিকার সমান।”