লেখক: নীরব স্বর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “Voice of Rabiul Vai” পেজ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক দরিদ্র ভ্যানচালকের সঙ্গে পুলিশের সদস্যরা অমানবিক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক ভ্যানচালককে প্রকাশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ ও শারীরিকভাবে হেনস্তার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ব্যক্তি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না, বরং দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের পথেই বাধাগ্রস্ত হন। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব কি কেবল আইন রক্ষা, নাকি নাগরিকের মর্যাদা রক্ষাও তাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ?
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন আচরণ শুধু ব্যক্তির মর্যাদাহানি নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখে। সেখানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রকাশ্যে এমন আচরণ আইনের শাসনের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং অনেকেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি বলে জানা গেছে। এতে জনমনে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে—এই ধরনের ঘটনায় দায়বদ্ধতা আদৌ নিশ্চিত হয় কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে এমন অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। শুধু দোষী ব্যক্তির শাস্তি নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশিক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থার সংস্কারও জরুরি।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিকতা ও আইনের শাসন একে অপরের পরিপূরক। দরিদ্র ভ্যানচালকের প্রতি আচরণ শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, এটি সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের বাস্তব চর্চা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।