নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের মুসলমানরা ক্রমেই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন—একাংশ হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মালম্বী মানুষ তাদেরকে প্রতিবেশী বা সহনশীল নাগরিক হিসেবে দেখছেন না, বরং শত্রু হিসেবে বিবেচনা করছেন। শুধু মনোভাব নয়, বাস্তবতাও তা প্রমাণ করছে। মুসলমানদের অভিযোগ, কিছু হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মালম্বী ব্যক্তি সরাসরি মুসলমানদের ক্ষতি করছেন—কথার আঘাত, অবজ্ঞা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং কখনো কখনো নৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাধ্যমে।
কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানে এই আচরণের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মুসলমানরা বলছেন, তাদের ধর্মীয় পরিচয়ই হচ্ছে এই বৈরিতার কারণ। স্বাভাবিক আলাপ-আলোচনায় হঠাৎ আচরণ বদলে যাচ্ছে, চোখে-মুখে ফুটে উঠছে বিরূপতা, কোথাও ঠাট্টা, কোথাও সরাসরি অপমান। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা আর শুধু ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং “ঝুঁকি” বা “সমস্যা” হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।
মুসলমানদের প্রশ্ন স্পষ্ট—আমরা কখনো কারও ক্ষতি করেছি কি? কেন আমাদের ধর্মীয় পরিচয়কে এমনভাবে শত্রুতার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে? মুসলিমরা সহাবস্থানের ভাষা বললেও, কিছু গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে চলমান এই অসন্তোষমূলক আচরণ সমাজের স্থিতিশীলতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অন্য ধর্মালম্বীদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক মাধ্যমের বিভ্রান্তি বা পূর্বের সহিংস ঘটনার প্রভাবের কথা তুলে ধরছেন। তবে মুসলমানদের যুক্তি হলো—ভয় বা অতীত ঘটনা কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ক্ষতি করার কারণ হতে পারে না। এমন আচরণ শুধু পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা ভাঙে, বরং সমাজে বিভাজনের বিস্তার ঘটায়।
আজ মুসলমানরা দেখছেন, শুধু চোখে-মুখে অসন্তোষ নয়, কখনো কখনো সরাসরি ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য গুরুতর হুমকি।
প্রশ্ন এখন রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে—এই ধারা কি স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হবে? নাকি স্পষ্টভাবে বলা হবে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ক্ষতি করা গ্রহণযোগ্য নয়?
মুসলমানদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—যদি এ ধরনের বৈরিতা, অসন্তোষ ও ক্ষতি রোধ করা না হয়, তবে তা একদিন পুরো সমাজকেই ভেঙে দিতে পারে। সমাজে সহাবস্থানের ভিত্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্রের অমোঘ দায়িত্ব।