নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির সম্ভাব্য রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে তীব্র ভাষায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেখক ও চিন্তাশীল নাগরিক সাবিত রিজওয়ান। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন।
এক বক্তব্যে সাবিত রিজওয়ান বলেন, তারেক রহমানকে তিনি একজন দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই দেখেন। তার ভাষায়, “যদি তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, সরকার হয়তো আওয়ামী লীগের নামে থাকবে না, কিন্তু চরিত্রে আরও ভয়ংকর কিছু দাঁড়াতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যে লুটপাটে জড়াবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘদিনের ক্ষুধা তৈরি করে এবং সেই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ অতীতে দেখা যায়নি।
এই বক্তব্যে তিনি বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতার তুলনাও টানেন। বলেন, “রাজনৈতিক দল বদলালেই ব্যবস্থার চরিত্র বদলায় না। বরং ক্ষমতার সুযোগ পেলে কারা কীভাবে তা ব্যবহার করবে, সেটাই আসল প্রশ্ন।”
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখা জরুরি। আবার অনেকেই এটিকে অতিরঞ্জিত ও একপাক্ষিক মন্তব্য বলে সমালোচনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত দেশের রাজনৈতিক আস্থাহীনতার প্রতিফলন। এক বিশ্লেষক বলেন, “যখন জনগণের একটি অংশ মনে করে যে সরকার বদলালেও শাসনের চরিত্র বদলায় না, তখন সেটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।”
এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আগেও একাধিকবার বলা হয়েছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
তবে সাবিত রিজওয়ানের বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—রাষ্ট্রক্ষমতায় কারা আসবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো তারা ক্ষমতা পেলে কী করবে। আর সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সমাজে যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে, সেটিই হয়তো এই বক্তব্যের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক।