
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ ও গোপন অপারেশন ঠেকাতে বেইজিং এক বিশাল কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে তেহরানকে সুরক্ষিত করতে চীন এখন সরাসরি প্রযুক্ত ও সামরিক পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বেইজিং মনে করছে, মোসাদের এই তৎপরতা কেবল ইরান নয়, বরং বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এক নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মডার্ন ডিপ্লোমেসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই চীন ইরানকে সব ধরনের মার্কিন ও ইসরায়েলি সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে। এর পরিবর্তে চীন ইরানকে নিজস্ব ‘ক্লোজড সিস্টেম’ বা অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, যা হ্যাক করা মোসাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হবে। এছাড়া, ইরান এখন মার্কিন জিপিএস-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনের তৈরি ‘বেইডু’ নেভিগেশন সিস্টেমে সম্পূর্ণ স্থানান্তরিত হওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে।
২০২৫ সালের সংঘাত পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চীন ইরানকে সলিড-ফুয়েল কেমিক্যাল এবং নিখুঁত গাইডেন্স সিস্টেম সরবরাহ করছে। এর ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও শক্তিশালী হবে এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দারা এগুলোকে কারিগরিভাবে অকেজো করতে পারবে না। বিশেষ করে ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলের ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে চীন অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম (YLC-8B এবং JY-27A) সরবরাহের ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের স্থিতিশীলতা চীনের বিশাল বিনিয়োগ প্রকল্প ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) এবং জ্বালানি আমদানির পথগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য অপরিহার্য। চীন মনে করে, মোসাদের নাশকতামূলক কার্যক্রম যদি ইরান সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তবে তা সরাসরি চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানবে। এই চীনা প্রচেষ্টার ফলে তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্ভেদ্য হয়ে উঠতে পারে।
