নিজস্ব প্রতিবেদক
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ। তবে দিনটি আসার সাথে সাথে ফিরে আসে ২৫ বছর আগের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি। ২০০১ সালের এই দিনে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে চালানো বর্বরোচিত বোমা হামলার আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। হত্যা মামলার রায় হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতেই থমকে আছে।
সেই কালরাত ও আইনি প্রক্রিয়া
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনার বটমূলে বিকট বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও একজন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছিল। হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৪ সালে আটজনের ফাঁসি ও ছয়জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিলেও বিস্ফোরক মামলাটি বর্তমানে মহানগরের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ বিচারাধীন রয়েছে।
বিচার বিলম্বের কারণ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক মামলায় ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু মামলাটি বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে আটকে আছে। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য থাকলেও কারাগার থেকে আসামিদের হাজির না করায় আদালত আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আগের সরকারের আমলে মামলাটি এগিয়ে নিতে তেমন সদিচ্ছা দেখা যায়নি। তবে এখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী বৈশাখের আগেই একটি চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর আসামিদের কাস্টডিতে রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
দণ্ডপ্রাপ্ত ও আসামিদের অবস্থা
হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি আব্দুল হান্নান (অন্য মামলায় কার্যকর), মাওলানা তাজউদ্দিন ও মাওলানা শফিকুর রহমানসহ আটজন। বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত ১১ আসামির মধ্যে সাতজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং দুইজন এখনো পলাতক।
স্মৃতিবিজড়িত রমনা বটমূলে আজ নতুন সুর বাজলেও দীর্ঘ দুই যুগেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়াকে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।