
কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
কবি নজরুল তুমি বিদ্রোহী পাখি বুলবুল,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরে হয়েছো চক্ষুশূল।
তোমার কলমে জ্বলে সর্বদা মুক্তির অগ্নিশিখা,
ঘুমন্ত জাতির প্রাণে জ্বালিয়েছো জাগরণের দীক্ষা।
সাম্যের গান গেয়ে ভেঙেছো সব ভেদাভেদ,
মানুষের অধিকার আদায়ে ধরেছো কঠিন জেদ।
দুঃখী-নিপীড়িতের পাশে ছিল তোমার দৃপ্ত ডাক,
শোষণের প্রাচীর ভাঙতে শোনালে বজ্রের হাঁক।
বাংলার আকাশে আজও তোমার সুর ভাসে,
প্রেরণার দীপ হয়ে জ্বলে যুগে যুগে মানুষের পাশে।
হে বিদ্রোহী কবি, তোমার অমর বাণী অটুট রবে,
স্বাধীনতার চেতনা হয়ে হৃদয় গহীনে জাগ্রত রবে।
ধূমকেতু হয়ে এলে তুমি এই বাংলার আকাশে,
জাগরণের গান গেয়ে গেলে পরাধীনতার বাতাসে।
শোষিত-বঞ্চিত যত নিপীড়িত মানুষের তরে,
তুমিই প্রথম আলো জ্বেলেছিলে ঘুমন্ত মনের ঘরে।
হাতের বেরির শিকল ভেঙে কপাট খুলুক দরজার,
শত জুলুমের অবসান ঘটাতে গর্জে উঠাও হুংকার।
হটাও তুমি দুর্বার গতিতে, লাগে না তো তলোয়ার,
ষড়রিপুর ভাবের প্রদীপ বিনাশ করো সেই জানোয়ার।
নফসের শাসন রেহাই পায় না, যতই আসুক কুৎসা,
সত্য জাগাও হৃদ-মাঝারে যতই আসুক লিপ্সা।
বাবরি চুলে ঝাঁকড়াও তুমি, ধরো দুর্বল রক্ত,
রক্ত টগবগিয়ে শিহরিত হৃদয় বানাও প্রভুভক্ত।
খোদ সাঁইয়ের ভোজে নিমগ্ন, নিজেকে করো অতি নগণ্য,
জিকিরে মশগুল করে দাও কলবের ময়লা জঘন্য।
প্রতিবাদী কণ্ঠ হৃদয় ছিঁড়ে জাগাও বারংবার,
অন্যায়ের বাঁধ ভেঙে গড়ো সত্যের নতুন দ্বার।
অন্যায় রুখে গড়ে তোলো সত্যের এক মিনার,
ভালোবাসার জোয়ারে নিভাও দগ্ধ সেই ঘৃণার।
ভয়-শঙ্কা দূরে ঠেলে হও ন্যায়ের দীপ্ত অঙ্গীকার,
মানবতার গানে জাগ্রত হোক আমাদের এই সংসার।
চির-উন্নত শির তোমার, আপসহীন সংগ্রাম,
চূর্ণ করিল শত জুলুমের আস্ফালন তামাম।
সেই চরণের ধূলি মাখি আজ বিনম্র শ্রদ্ধায়,
বায়েজিদ গাহে গান তব অক্ষয় মহিমায়।
