লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম

আমরা ভালো আছি কিনা তার উত্তর — আলবত ভালো আছি। আমার দেশে ধর্মীয় মানসিকতার লোক সবাই। সংবিধানে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম আছে, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম লিপিবদ্ধ আছে, ইসলামী শিক্ষার জন্য প্রায় চুয়াত্তর হাজার মাদ্রাসা, সাড়ে তিন লাখ মসজিদ আছে, গত ফ্যাসিস্ট সরকার আরও পাঁচশত পয়ষট্টি টা ফাইভ স্টার মসজিদ করে দিয়ে গেছে, হিন্দুদের জন্য এক লক্ষ মন্দির, একহাজার গীর্জা ও প্রায় পাচ শতের উপরে বৌদ্ধ মঠ করে দিয়ে গেছে!

আমাদের দেশে VIRGIN, একদম ইনট্যাক্ট ফুলের কলি সম সাত-আট নয় বছরের মেয়ে উপভোগ করা যায়! শুধু উপভোগ নয়, সাক্ষ্য প্রমান মুছে ফেলতে উপভোগের পর কয়েক টুকরা লাশ করে ফেললেই কিচ্ছা খতম! এমনি রামিসা, আছিয়া, তায়েবা, সায়মা, ময়না, ফাহিমা, রামিশা, দোলা, আয়শা, তাহাতি আরও অনেকে চিরতরে পৃথিবীর আলোবাতাস থেকে দূরে চলেগেছে!
বিচার? সে-তো সুদূর পরাহত! সদ্য লাশের খন্ড টুকরো হয়েছে “রামিসা” নামের এক শিশু, সাত-আট বছর বয়স হবে, অনেক সংগঠন চিল্লা পাল্লায় কেউ কেউ বিব্রত হয়েছেন, অন্যথায় বিগত অনেক ধর্ষিত শিশুর জন্ম দাতারা প্রশাসন আদালতের দরজা ঠক ঠকিয়ে দীর্ঘ দিন স্যান্ডল ছিড়েছেন কয়েক জোড়া!

আমাদের দেশে আরও মজা হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। এদেশের সব মানুষ বেহেশতে যেতে এবং সস্তা শিক্ষার জন্য এ-সব প্রতিষ্ঠানে তাদের মাসুম নারী শিশুগুলোকে আবাসিক বোর্ডিং এ রেখে দেয়! এখানে বলৎকার হয়, শুধু মেয়ে নয় আট-দশ বছরের ছেলে শিশুও! @ধর্ষক দারুন লেবাসপরস্তি, শক্ত তাদের চাকুরির পদ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে একটা গোষ্ঠী তাদের বাঁচাতে তৎপর হয়ে ওঠে এবং আসামি সহজে যামিন পেয়ে যায়!
সেই ফেনীর সোনা গাছি ডিগ্রি মাদ্রাসার নূসরাত জাহান অধ্যক্ষের বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাব ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করলে তাঁকে ছাদে ডেকে নিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয়। অধ্যাক্ষ সাহেবের অনেক বেড পার্টনার ছাত্রী পপি কামরুন্নাহার মণি শম্পা এই হত্যায় সহায়তা করে! এমন কি থানার ওসি মোয়াজ্জেম ও বিক্রি হয়ে গিয়েছিলো! আত্মহত্যা বলে খোদ ওসি প্রচার করেছিলো। ওসি ও গ্রেফতার হয়েছিলো ততকালীন সরকারের নির্দেশে!

প্রিয় পাঠক, ঘটনাটা গত স্বৈরশাসক আমলে ২০১৯ সালের দিকে। বিচারে হত্যায় জড়িত অধ্যাক্ষ সিরাজুদ্দৌলা সহ ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিলো, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেখানেও একই রায় বহাল ছিলো!
আজ-ও একই ঘটনা ঘটে চলেছে, হুশ হচ্ছেন না অভিভাবকদের, হুশ ফিরছে না প্রশাসন তথা শিক্ষা ব্যবস্হায় জড়িত উর্ধতন কর্মকর্তাদের! বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বলৎকার বেড়েছে অনেক গুন! অসহায় রামিসা আছিয়া তয়েবা সায়মাদের আত্মা বিচার পেতে বর্ষা বিস্ফোরিত আকাশের নিচে ঘুরছে আদালত পাড়ায়, বিচার পাবে কি?

অনেকগুলো দেশ একাধিক বার ঘোরার সুযোগ হয়েছে! হাফপ্যান্ট পরা স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে দেয়া নারী সেখানে! ধর্ষণ নাই সে-সব দেশে, বিচার নিরবে নিভৃতে কাঁদে না সেথা! খুব সহজ পথে বেহেশতে স্বর্গ পেতে লোক হুমড়ি খায়না, তারা জানে মানবতা মনুষ্যত্ব তাকওয়া পূর্ণ জীবন ছাড়া প্যাড়াডাইজ মেলে না! সেখানে আমাদের ভাষায়, অর্ধ উলঙ্গ নারীর দিকে কেউ তাকায় না কারন সবার মন মানসিকতা শত ভাগ সাফ, নারী মানে তেঁতুল এমন কথা সে দেশে শিক্ষা দেয়া হয় না! নারীপুরুষ এক সাথে মিল কলকারখানা অফিস-আদালত ফসল ফলানো জমিতে কাজ করছে, কোথাও নারীকে মানুষ ছাড়া ভিন গ্রহের জীব ভাবা হয় না! দশগজ কাপড়ে ও তারা মোড়ানো নয়! নারী দেখলে জিহ্বায় কামোদ্দীপক লালা আসে না সেদেশের পুরুষের! তারা বিজ্ঞান জানে, পুরুষের পুরুষতন্ত্রে চার হাজার veins accumulated only but নারীর নারী তন্ত্রে আট হাজার veins are accumulated. লালা তো নারীর বেশি আসার কথা, তাহলে বোরকা পুরুষের পরা উচিত নারীকে পাপ থেকে বাঁচাতে। আসলে মানুষ চোখ দিয়ে দেখে না, মানুষ দেখে মন দিয়ে অতএব হাত মোজা পা মোজা হিজাব নেকাব বোরকা অবুঝের পাচালি মাত্র! তা-ই তো সুদূর জার্মানি আমেরিকা ইরান ভারত থেকে ভালোবেসে একটা মেয়ে বাংলাদেশে চলে আসে মনের দেখার উপর ভরসা করে।

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *