নিজস্ব প্রতিবেদক

​মাঠে বল গড়াতে এখনো বাকি ৩৩ দিন। কিন্তু তার আগেই মেক্সিকোর রাজপথে বইছে প্রতিবাদের ঝড়। তবে এই প্রতিবাদ কোনো গোল বা অফসাইড নিয়ে নয়, বরং বিশ্বকাপের দোহাই দিয়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক মাস আগেই ‘অফসাইড’ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটি ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ফুটবল মহাযজ্ঞের। আর সেই মহোৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে নির্ধারিত সময়ের ৪০ দিন আগেই স্কুল ছুটির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

​তপ্ত আবহাওয়া নাকি ফুটবলের অজুহাত?

মেক্সিকোর শিক্ষামন্ত্রী মারিও ডেলগাডো জানিয়েছেন, ৫ জুনের মধ্যেই বর্তমান শিক্ষাবর্ষের ইতি টানা হবে। ছুটির এই আগাম সূচির পেছনে তিনি দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন—একটি হলো বিশ্বকাপের ব্যাপক প্রস্তুতি, আর অন্যটি কয়েকটি রাজ্যে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ। তবে সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই অজুহাতকে সহজভাবে নিতে পারছে না। ৫ জুনের ছুটি কেন ৪ জুলাই পর্যন্ত টানা হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর বিতর্ক।

​অন্ধকারে ২ কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির ২ কোটি ৩৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পড়ালেখা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগাম ছুটির ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় যেমন কমবে, তেমনি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যদের বৈষম্য আরও বাড়বে। অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন—ফুটবল উৎসব কি তবে পড়াশোনার চেয়েও বড় হয়ে উঠল? কর্মজীবী পরিবারগুলোও পড়েছে বিপাকে; হঠাৎ এই ছুটিতে সন্তানদের দেখাশোনা আর কাজের সূচি মেলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে তারা।

​ব্যবসায়ী ও বিরোধী শিবিরের হুংকার

দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠন ‘কোপারমেক্স’ এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘হঠকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। মেক্সিকোর জালিসকো রাজ্য সরকারের সাফ জবাব—তারা ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখবে। ফুটবল যেখানে হওয়ার কথা, কেবল সেই চার দিন কৌশলগত কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হবে, পুরো মাস নয়।

​পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার টানে মেক্সিকো যখন উৎসবে মাতোয়ারা হওয়ার কথা, তখন এক হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষোভ আর শিক্ষা সঙ্কটের কালো মেঘ এখন দেশটির আকাশে। ফুটবল উন্মাদনা কি তবে মেক্সিকোর আগামীর কারিগরদের এক ধাপ পিছিয়ে দিল? উত্তরটি হয়তো সময়ের মাঠেই পাওয়া যাবে।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *