অনলাইন ডেস্ক

​প্রেম যে কোনো সীমানা মানে না, এমনকি জেলখানার সুউচ্চ প্রাচীরও যে ভালোবাসার পথে বাধা হতে পারে না—তারই এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো মধ্যপ্রদেশে। খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির প্রেমে পড়ে শেষ পর্যন্ত তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন এক মহিলা জেল সুপারিনটেনডেন্ট। সামাজিক ও ধর্মীয় সব বাধা পেরিয়ে তাদের এই বিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

​যেভাবে শুরু এই ‘অসম’ প্রেম

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু মধ্যপ্রদেশের সাতনা কেন্দ্রীয় কারাগার। সেখানে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ফিরোজা খাতুন। অন্যদিকে, ২০০৭ সালে একজন কাউন্সিলরকে খুন ও মরদেহ গুম করার দায়ে যাবজ্জীবন সাজা খাটছিলেন ছত্তরপুর জেলার বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র সিং। কারাগারে ওয়ারেন্ট সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করার সুবাদে নিয়মিত দেখা হতো ফিরোজা ও ধর্মেন্দ্রর। সেই দাপ্তরিক আলাপচারিতা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, যা পরে গভীর প্রেমে রূপ নেয়।

​কারাগার থেকে ছাদনাতলা

প্রায় ১৪ বছর কারাবাসের পর ভালো আচরণের কারণে চার বছর আগে মুক্তি পান ধর্মেন্দ্র। তবে মুক্তি পেলেও ফিরোজার সাথে তার সম্পর্কের ছেদ পড়েনি। গত ৫ মে ছত্তরপুরের এক মন্দিরে বৈদিক আচার ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে এই যুগল বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। ভিন্ন ধর্মের হওয়ার কারণে আইনি জটিলতা ও সামাজিক বিতর্ক এড়াতে ধর্মেন্দ্র বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে নিজের নামও পরিবর্তন করেছিলেন।

​পরিবার পাশে নেই, পাশে হিন্দু পরিষদ

ফিরোজা খাতুন নিজের ধর্ম ও পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে এই বিয়ে করায় তার পরিবারের কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে এই ‘ভিন্নধর্মী’ বিয়েতে অনন্য এক নজির গড়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের স্থানীয় সদস্যরা। ফিরোজার পরিবারের অনুপস্থিতিতে ভিএইচপি-এর জেলা সহ-সভাপতি রাজবাহাদুর মিশ্র ও তার স্ত্রী নিজেই কন্যাদান করেন।

​অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে এই বিয়ে

আমাদের প্রতিনিধিরা জানতে পেরেছেন, জেলের ভেতর একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাথে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সাতনা কেন্দ্রীয় কারাগারে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। তবে ফিরোজা খাতুন তার পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই ধর্মেন্দ্রর মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। সামাজিক ও ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের এই বিয়ে স্থানীয় অঞ্চলে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি অনেককে অবাকও করেছে।

​সাতনা কারাগারের কর্মকর্তা ও বন্দিরা এই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানালেও, একজন জেলারের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিয়ের বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে আলোচনার খোরাক দিচ্ছে।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *