বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
কল্পনা করুন একটি গোধূলি বেলার কথা। আপনার আদরের ছোট্ট মেয়েটি, যার বয়স বড়জোর ১২ বা ১৩: ফুলের মতো পবিত্র যার হাসি। তাকে প্রলোভন দেখানো হলো এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। সে ভাবল সে হয়তো মহাকাশ দেখবে বা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের কাছে জ্ঞান নেবে। কিন্তু সে জানত না, সে যে ডানাওয়ালা কফিনে চড়েছে তার নাম ‘ললিটা এক্সপ্রেস’। সে জানত না, এই নীল আকাশের নীল রং আসলে এক নিকষ অন্ধকারের দিকে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যার শেষ গন্তব্য প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এক নির্জন দ্বীপ, ‘লিটল সেন্ট জেমস’।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি এক পার্থিব জান্নাত। কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই সেই ১২ বছরের মেয়েটির পৃথিবী কাঁচের মতো চুরমার হয়ে গেল। সে দেখল, টিভিতে যাদের সে হিরো হিসেবে দেখেছে, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বিশ্বের দাপুটে প্রেসিডেন্টরা: সবাই সেখানে বসে আছে। কিন্তু তাদের চোখে মমতা নেই, আছে এক আদিম পৈশাচিক ক্ষুধা। মেয়েটি যখন আর্তনাদ করে বলেছিল, “আমি মায়ের কাছে যাব”, তখন সেই কান্না সমুদ্রের গর্জনে আর শ্যাম্পেনের বোতল খোলার শব্দে হারিয়ে গিয়েছিল। তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল, “চুপ থাক! এরা এই পৃথিবীর ঈশ্বর। এদের তুষ্ট করাই তোর একমাত্র কাজ।”
এই পিশাচদের মুখোশ উন্মোচন হলো কীভাবে?
জেফ্রি এপস্টাইন ছিল অত্যন্ত ধুরন্ধর। সে জানত, এই রাঘব-বোয়ালদের সাথে তার সম্পর্কই হচ্ছে তার রক্ষা কবচ। তাই সে তার ‘দ্য ব্ল্যাকবুক’ (The Black Book)-এ সবার নাম এবং কুকীর্তি টুকে রাখত। এটি ছিল তার ইনস্যুরেন্স পলিসি। সে ভেবেছিল, এই পিশাচদের ভিডিও তার কাছে আছে বলে কেউ তাকে ছোঁবে না।
কিন্তু প্রকৃতির বিচার অলঙ্ঘনীয়। ভার্জিনিয়া জুফ্রের মতো এক সাহসী নারী, যে শৈশবে এই শকুনিদের শিকারে পরিণত হয়েছিল, সে যখন লড়াকু হয়ে উঠল: তখনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল এই অন্ধকার সাম্রাজ্য। আদালতের নির্দেশে যখন হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি বা ‘এপস্টাইন ফাইল’ উন্মোচিত হলো, তখন বিশ্ববাসী দেখল তথাকথিত ভদ্রলোকদের বিকৃত চেহারা।
তালিকায় থাকা সেই ‘দেবতা’দের নাম
তালিকায় থাকা নামগুলো দেখলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। যাদের আপনারা আইডল ভাবেন, তারা আসলে নর্দমার কীট:
১. বিল ক্লিনটন: গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি বহুবার এই দ্বীপে গিয়েছেন। নথিতে উল্লেখ আছে, সেখানে গিয়ে তিনি কী কী জঘন্য কাজে লিপ্ত হতেন।
২. প্রিন্স অ্যান্ড্রু: রাজকীয় আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নেকড়ে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সদস্য ভুক্তভোগী মেয়েদের সাথে পৈশাচিক লালসায় মত্ত হতেন বলে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
৩. বিল গেটস ও স্টিফেন হকিং: একজন টিকার নামে দুনিয়ার মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অন্যজন মহাকাশ নিয়ে জ্ঞান দেন। কিন্তু নথিতে দেখা যায়, তাঁরাও এই শিশু পাচারকারীর নিয়মিত মেহমান ছিলেন। হকিংয়ের মতো শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিকেও সেখানে কেন নেওয়া হয়েছিল, তার বর্ণনা আপনার শরীর হিম করে দেবে।
৪. ডোনাল্ড ট্রাম্প: রাজনীতির আরেক মোড়ল, যার সাথে এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের সখ্যতা ছিল।
এটি কি কেবল বিকৃতি, না কি বড় কোনো এজেন্ডা?
এপস্টাইন কেবল একজন যৌন অপরাধী ছিল না। সে ছিল মোসাদ (Mossad) এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি ‘হানি-ট্র্যাপ’ প্রজেক্টের এজেন্ট। তার কাজ ছিল বিশ্বনেতাদের এই দ্বীপে নিয়ে এসে তাদের নোংরা কাজের ভিডিও রেকর্ড করা। গোয়েন্দা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘Kompromat’।
আপনার প্রিয় নেতারা যখন ফিলিস্তিনের গণহত্যা দেখেও নিশ্চুপ থাকে, যখন তারা অদ্ভুত সব সেকুলার এজেন্ডার পক্ষে কথা বলে, তখন বুঝবেন তাদের গলার দড়িটি আসলে জায়নবাদীদের হাতে। তারা জানে, মুখ খুললেই সেই দ্বীপের গোপন ভিডিও ফাঁস হয়ে যাবে। তাদের ক্যারিয়ার, সম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে। তাই তারা আজ শয়তানের দাসে পরিণত হয়েছে।
আধুনিক সুশীলদের ভণ্ডামি
বাংলাদেশে যখন কোনো ধর্মীয় শিক্ষক পর্দার কথা বলেন বা অল্প বয়সে বিয়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, তখন আমাদের সুশীলরা, নারীবাদীরা চিৎকার করে আকাশ-বাতাস ভারী করে ফেলে। তারা ফতোয়া দেয়, “মোল্লারা সব পেডোফাইল!” কিন্তু আজ যখন দেখা যাচ্ছে তাদের স্বপ্নের আমেরিকা, তাদের সভ্যতার ধারক-বাহকেরা এক একজন জঘন্য লেভেলের শিশু অপহরণকারী, তখন তারা বোবা-কালা হয়ে গেছে।
কারণ এই অপরাধীরা ইংরেজি জানে, দামী পারফিউম মাখে এবং তারা সাদা চামড়ার। তাদের কাছে পশ্চিমা অপরাধ মানেই ‘লাইফস্টাইল’, আর আমাদের ধর্ম মানেই ‘অন্ধকার’। এই হিপোক্রিটদের চিনে রাখুন, এরা সেই দাজ্জালিক ব্যবস্থারই অংশ।
দাজ্জালিক এনডব্লিউও (NWO) ও শেষ গন্তব্য
এই নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের মূল লক্ষ্যই হলো পারিবারিক প্রথা ধ্বংস করা, শিশুকামিতা ও সমকামিতাকে স্বাভাবিক করা এবং মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনা। এপস্টাইন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এই সেকুলার পুঁজিবাদের পচে যাওয়া কলিজার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তারা চায় আপনার সন্তানকেও তাদের মতো বিকৃত করতে।
পবিত্র কোরআন আমাদের সতর্ক করেছে, “ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর।” ইসলাম ছাড়া, শরিয়াহ ছাড়া এই পিশাচদের থামানোর কোনো আইন দুনিয়াতে নেই। কারণ যারা আইন বানায়, তারাই আজ এই কদর্য পাপে নিমজ্জিত।
নিজের ঈমানের জন্য কান্না করুন। আপনি কাদের অনুসরণ করছেন? হাশরের ময়দানে যেন এই পিশাচদের কাতারে আপনার নাম না ওঠে। মনে রাখবেন, হাশর হবে তাদের সাথেই, যাদের আপনি এই দুনিয়ায় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্থান দিয়েছেন। আজই সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কি দাজ্জালিক এই সভ্যতার গোলাম হয়ে থাকবেন, না কি সত্যের পথে ফিরে আসবেন?