
লেখক: ফাতেমা আক্তার:
ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর যখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। সেই সময় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল অত্যন্ত দৃশ্যমান। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযান, গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনের খবর প্রকাশিত হতো।
ছোটবেলায় নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস ছিল আমার। তাই সেই সময়কার ঘটনাগুলো আজও মনে আছে। দেশের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন এবং জনমনে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি এসব বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা তখন সাধারণ মানুষের চোখে পড়েছিল।
আজকের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে দেশ কি নতুন ধরনের কোনো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে?
বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এমন তথ্য দেখা যায় যে দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করা কিছু অপরাধ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশে ফিরছে। এসব তথ্য কতটা সত্য, তা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
একই সঙ্গে বাস্তবতা হলো, ধর্ষণ, মাদক, চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা এবং সাইবার অপরাধের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে সংঘবদ্ধ অপরাধ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা শুধু আজকের জন্য নয়, আগামী দিনের জন্যও নিশ্চিত করতে হয়। তাই গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যভিত্তিক তদন্ত এবং আইন প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। কারণ কোনো অপরাধী চক্র বা উগ্রবাদী গোষ্ঠী যদি নীরবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তার প্রভাব সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে যেতে পারে।
আমরা সবাই চাই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ যেখানে সাধারণ মানুষ ভয় নয়, স্বস্তি নিয়ে জীবনযাপন করবে। সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।

ধন্যবাদ