16

খুলনা থেকে মিলন বিশ্বাস 

খুলনা আর্ট একাডেমির শিশু শিল্পী দুই ভাই প্রাচুর্য ও পার্থিব এস ও এস হারম্যান মেইনার স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রাচুর্য প্রথম স্থান এবং পার্থিবও প্রথম স্থান অর্জন করেছে। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতাতেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে পার্থিব।দুই ভাইয়ের এই সাফল্যের খবরে আনন্দিত তাদের পরিবার, শিক্ষক এবং খুলনা আর্ট একাডেমির পুরো পরিবার। পুরস্কারের খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরাও আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসকে জানান।চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন, শিশুদের এমন অর্জন তাঁর কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়; বরং শিশুদের নিয়ে দীর্ঘদিনের শিল্পচর্চা, শ্রম ও স্বপ্নের একটি আনন্দময় প্রতিফলন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের শিল্পশিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশে কাজ করে আসছেন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুদের সাধ্যমতো উৎসাহ ও সহযোগিতা করে থাকেন।তিনি মনে করেন, একজন শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিক ভালোবাসা, উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। কোনো শিশু প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করলে তিনি তাকে অভিনন্দন জানান এবং সাধ্যমতো খাতা, পেন্সিলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দিয়ে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি কোনো শিশু চিত্রাঙ্কন বা অন্য কোনো সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে অভিভাবকদের নিয়মিতভাবে সন্তানকে শিল্পচর্চায় যুক্ত রাখতেও উৎসাহ দেন।২০০৩ সাল থেকে খুলনা আর্ট একাডেমির মাধ্যমে শিশুদের শিল্পশিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশে কাজ করে আসছেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস। তাঁর মতে, শিল্পশিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ছবি আঁকা, গান গাওয়া বা সুন্দর আবৃত্তি শেখানো নয়; বরং শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্ঞান, বিবেক, সততা, মানবিকতা ও আদর্শবোধ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি প্রায়ই বলেন, সন্তানকে শুধু ভালো নম্বর বা পুরস্কার পাওয়ার জন্য শিল্পচর্চায় নিয়ে আসা উচিত নয়। বরং শিল্পচর্চার মাধ্যমে তার মধ্যে জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং ভালো মানুষ হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ একজন শিশুর শিল্পী হিসেবে সাফল্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তার মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠা।প্রাচুর্য ও পার্থিবের এই সাফল্যকে তাই শুধু দুটি শিশুর পুরস্কার অর্জন হিসেবে দেখছে না খুলনা আর্ট একাডেমি। তাদের পরিবার, বিদ্যালয় এবং একাডেমির জন্যও এটি আনন্দ ও গর্বের একটি মুহূর্ত। শিশুদের সাফল্যের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি দেওয়া শ্রম, ভালোবাসা ও উৎসাহ সার্থক হচ্ছে বলে মনে করেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।তিনি বলেন, কোনো শিশু যখন নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বয়ে আনে, তখন সেই সাফল্যই শিশুদের নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের পথচলার অন্যতম আনন্দময় প্রাপ্তি। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের জন্য ভালো কিছু করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই মানুষের কাজ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকে। পিতা-মাতা ও শিল্পগুরুদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করে শিশুদের জন্য তাঁর এই পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।প্রাচুর্য ও পার্থিবের সাফল্যে খুলনা আর্ট একাডেমি পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। তাদের সৃজনশীলতার পথ আরও বিস্তৃত হোক এবং তারা ভবিষ্যতে জ্ঞানী, মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।