নিজস্ব প্রতিবেদক, দেবীগঞ্জ

​পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পার হলেও অর্ধেকও শেষ হয়নি। সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় এই ধীরগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর ও দেবীগঞ্জের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্ষা ঘনিয়ে আসলেও কাজ শেষ না হওয়ায় নদী পারাপার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​প্রকল্পের চিত্র ও বর্তমান অবস্থা

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘IRIDP-3’ প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’ ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পিলারের কাজই পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

​সরেজমিনে বিশৃঙ্খলা ও নিম্নমানের সামগ্রী

বুধবার সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারটি পিলারের মধ্যে তিনটির কাজ শেষ হলেও একটি এখনো অসম্পূর্ণ। সেতুর মূল কাঠামো বা গার্ডারের কোনো চিহ্নই নেই। নদীর দুপাশে যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে নির্মাণসামগ্রী, যার অনেকগুলোতে মরিচা ধরে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের সঙ্গে মাটির মিশ্রণ রয়েছে, যা সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এছাড়া কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় কাজ আরও স্থবির হয়ে পড়েছে।

​বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, বিপাকে শিক্ষার্থী ও রোগীরা

সেতুটি সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার যাতায়াতের প্রধান পথ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই পথে চলাচল করে। আগে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও কাজ শুরুর সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেটি ভেঙে ফেলে। এখন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে ভ্যান ও পথচারীদের। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মামুন ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেড় বছর আগে কাজ শুরু হলেও শেষ হওয়ার নাম নেই। সাঁকোটাও নেই, এখন বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের যাতায়াত পুরো বন্ধ হয়ে যাবে।”

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আল আমিন খন্দকারের অভিযোগ, কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে এলজিইডির প্রকৌশলী উল্টো মামলার হুমকি দেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আরিফ ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।

​দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল জানান, প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে। বৃষ্টির কারণে চলাচলের সাময়িক সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। তবে কাজের মান ও ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ কমছে না।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *