নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেশের ৯টি জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১০টি ‘স্বপ্নজয়ী পাঠশালা’। সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই পাঠশালাগুলো ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাগরিকা নাসরীন–এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, বাগেরহাট, পঞ্চগড়, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল এবং সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলায় রয়েছে দুটি পাঠশালা।

শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আলোর দিশা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও বহু শিশু দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে যায়। সেই বাস্তবতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বপ্নজয়ী পাঠশালার যাত্রা শুরু করেন সাগরিকা নাসরীন।

তিনি বলেন,

“আমি অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের জন্য ভালো কিছু করতে চাই—এই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ। অনেক শিশু শুধুমাত্র সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জগন্নাথপুর পাঠশালায় পরিদর্শন

গত শনিবার দুপুর ২টায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার স্বপ্নজয়ী পাঠশালা পরিদর্শন করেন সাংবাদিক ও সমাজসেবীরা। পরিদর্শনে গিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষকদের আন্তরিক ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আহমেদ হোসাইন ছানু, জগন্নাথপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন বেলাল, অলটাইম ক্লিন জগন্নাথপুর সামাজিক সংগঠনের সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পাঠশালার দুইজন মহিলা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং অতিথিদের সামনে শিশুদের শিক্ষাগত অগ্রগতি তুলে ধরেন।

বিনামূল্যে শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা

স্বপ্নজয়ী পাঠশালাগুলোতে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পাঠদান, শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক শিশুই প্রথমবারের মতো নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।

স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, পাঠশালাগুলো শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

দেশজুড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

প্রতিষ্ঠাতা সাগরিকা নাসরিন জানান, ভবিষ্যতে দেশের আরও পিছিয়ে পড়া এলাকায় স্বপ্নজয়ী পাঠশালার কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

মানবিক উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এমন শিক্ষা কার্যক্রম দেশের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। স্বপ্নজয়ী পাঠশালা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে—সদিচ্ছা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও বড় পরিবর্তন সম্ভব।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে ‘স্বপ্নজয়ী পাঠশালা’ আজ হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার এক নীরব আন্দোলনের নাম।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *