
বশির আহম্মদ মোল্লা,নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরায় ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের এক হাজার দৌড়বিদ অংশ নিয়েছেন। রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে ম্যারাথনে অংশগ্রহনকারী দেশ-বিদেশের এক হাজার দৌড়বিদ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৩টা থেকে ১২ টা পযর্ন্ত নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আমিরগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইনের পাশের সড়কে এ দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে বর্ণিল সাজে দেশ-বিদেশের দৌড়বিদ সহ বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও নরসিংদীর রায়পুরাকে দেশ-বিদেশে আরোও পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করাই এ আয়োজনের মুল লক্ষ্য। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য,প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, সন্ত্রাস,চাদাঁবাজ, মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নির্মূলে সুস্থ জীবনযাপন এবং সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রয়োজন। দেশের অন্যতম বড় ম্যারাথন এ আয়োজন। ভবিষ্যতে এটি আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে রায়পুরা ম্যারাথন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত লঅভ করে,এ ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হবে। ক্রীড়ার সঙ্গে মানবিক কল্যাণকে যুক্ত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের ম্যারাথনের অন্যতম বিশেষ দিক সামাজিক দায়বদ্ধতা। আয়োজকদের চ্যারিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে অরফান লাভ ফাউন্ডেশন। নিবন্ধন ফি-এর একটি অংশ এতিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে। এ উদ্যোগের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনেক দৌড়বিদ অতিরিক্ত ফি দিয়েও অংশ দিচ্ছেন। দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং দেশি-বিদেশি দৌড়বিদ ও তরুণ ক্রীড়ামোদীদের অংশগ্রহণের ফলে রায়পুরা ম্যারাথন এখন আর শুধু দৌড় প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি বড় আয়োজনে পরিণত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মেঘনা নদীতে দেশজুড়ে অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে নৌকাবাইচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, এবারের ম্যারাথনে চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এগুলো হলো ৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথন, ২৫ কিলোমিটার রেস, ১০ কিলোমিটার রেস এবং এক কিলোমিটার ফ্যামিলি রেস। ফ্যামিলি রেসে শিশু ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির রেস ডিরেক্টর সবুজ শিকদার জানান, ২০২৩ সালে ৪০০ দৌড়বিদ নিয়ে রায়পুরা হাফ ম্যারাথনের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৪ সালে অংশ নেন ৭০০ জন এবং ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যায়। এবার সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ডসন গ্রুপের চেয়ারম্যান, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জান্নাতুল হক শাপলা, রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বাইজিদ বিন মনছুর, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুন নাঈম, ওয়ার্ডসন গ্রুপের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন পাপ্পু, রায়পুরা পৌরসভার সাবেক মেয়র হাজী আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ও নাজমুল হক ভৃঁইয়া মোহন, রায়পুরা পৌর বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী মুন্সী, রায়পুরা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য কাজী আসাদুর রহমান মিলন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আব্দুল বাতেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভৃঁইয়া আলতাফ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বাছেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সোহেল ও সদস্য সচিব সুমন নেওয়াজ, উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ন কবির ভুইয়া, উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহবায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইয়াকুব আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী আফরিনা আসাদ, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক হান্নান মোল্লা ও সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরকার, উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি হুরমুজ মোল্লা ও সদস্য সচিব শেখ আলমগীর হোসেন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক ফিরোজ আল মুজাহিদ ও সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম, রায়পুরা পৌরসভা তাঁতীদলের সভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম চান মিয়া ও সদস্য সচিব মো. বাদল মিয়া এবং রায়পুরা পৌর মহিলা দলের সভাপতি আসমা আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসন ও আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা।
