
মোঃ মুনজুর আলম,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বেনাপোল যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর কাস্টমসের নিলাম গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের নির্ধারিত পণ্যের বাইরে অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ মালামাল অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তকৃতরা হলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী ও আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং কাস্টমস সিপাই জামশেদ, সাগর ও হামিদুর রহমান।সিসিটিভি ফুটেজে জালিয়াতি প্রকাশ
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত রবিবার (২১ জুন) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর উদ্দেশ্যে একটি গাড়িতে মালামাল লোড করা হচ্ছিল। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া প্রথম দফার লোড কার্যক্রম শেষ হয় ১১টা ৪৩ মিনিটে। এর কিছুক্ষণ পরই, রাত ১১টা ৫৮ মিনিট থেকে ১২টা০৪ মিনিটের মধ্যে একই গাড়িতে আবারও মালামাল লোড করা হয়। এরপর মধ্যরাতে (১২টা ৪৫ থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যে) ওই গাড়ি থেকে ২২-২৫টি প্যাকেজ পণ্য তড়িঘড়ি করে আনলোড করা হয়।এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় কাস্টমসের গোডাউনে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ও সিপাই মোহাম্মদ সাগরের সরাসরি উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, তারা বিধি-বহির্ভূত ও অবৈধভাবে পণ্য পাচারের উদ্দেশ্যে এই কাজ করছিলেন।
দুর্গাপুর মোড়ে বিজিবির অভিযান ও পণ্য জব্দ
এদিকে ওই একই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের বরাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড়ে অভিযান চালায়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান আটক করা হয়। কাভার্ডভ্যানটি বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে তল্লাশি চালালে কাস্টমসের নির্ধারিত তালিকার চেয়ে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায়।
কাস্টমসের ইস্যু করা চিঠিতে ঢাকার ত্রাণ ভাণ্ডারে ৩,০২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল এবং ৮টি ওড়না পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল। কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেনের পক্ষে স্বাক্ষরিত এই পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী।
তবে বিজিবির তল্লাশিতে গাড়িটি থেকে উদ্ধার করা হয়,ভারতীয় শাড়ি: ৬,০০৮টি (নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ২,৯৮৬টি বেশি)
থ্রি-পিস: ৬৩টি (৫টি বেশি)
কম্বল: ৩৮৬টি (১২৩টি বেশি) চাদর: ২০৮টি
ওড়না: ৮টি কসমেটিকস সামগ্রী: ৩৩,২২২টি (যা তালিকায় ছিলই না)
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত এই অতিরিক্ত মালামালের আনুমানিক সিজার (জব্দ) মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর আড়ালে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য পাচারের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করে বিজিবি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইসহ মোট ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।