
খুলনা ব্যুরোঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৫ জুন (২০২৬) সন্ধ্যায় বনগ্রাম ইউনিয়নের বলভদ্রপুর বাজার সংলগ্ন 'মহিষপুরা টু খুলনা আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি' (রেজিঃ নং-খুলনা-৭৭৮) কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অফিস সহকারী মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ (৪৯) বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন চাঁদাবাজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চাঁদা দাবি ও নৃশংস হামলা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে উক্ত মালিক সমিতির অফিস সহকারী মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ ও কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার দাসের কাছে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিবাদীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং অফিস বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়।
এরই জেরে গত ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকায় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুনরায় অফিসে চড়াও হয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড, হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোটা দিয়ে অফিসের চেয়ার-টেবিল, একটি টেলিভিশনসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে অফিসের প্রায় ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার ক্ষতি হয়।
মারধর ও মালামাল লুট
ভাঙচুরে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা অফিস সহকারী সাইদুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার দাসকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। মারপিটের একপর্যায়ে স্বপন কুমার দাস মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার পকেট থেকে নগদ ১৮,০০০/- টাকা, ৩৩,০০০/- টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন এবং ৩,০০০/- টাকা মূল্যের একটি বাটন ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া অফিস থেকে নোটিশ বই, রেজুলেশন খাতা, গঠনতন্ত্র, সার্টিফিকেট, ক্যাশ বই, বিল ভাউচার রশিদ বই ও সদস্য রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা
ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত অফিস সহকারী মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং গুরুতর আহত কোষাধ্যক্ষ স্বপন কুমার দাসকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত যারা
মামলায় নামীয় অভিযুক্তরা হলেন—
খান শহিদুজ্জামান মিল্টন (৪৮), পিতা- মৃত আবুল হোসেন খান
মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (৩২), পিতা- মৃত আরোজ আলী খান
মোঃ আসাদ মোল্লা (৪০), পিতা- মৃত মোস্ত মোল্লা
মামুন শেখ (৩০), পিতা- মোঃ দেলোয়ার শেখ
প্রসনজিৎ দাস (৩২), পিতা- জীবনানন্দ দাস
মোঃ জাহিদ (৩৮), পিতা- মোঃ পগলা শেখ।
এ ছাড়া মামলায় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, "আমরা এ সংক্রান্ত একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।