নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে রংপুরের অবদান অনস্বীকার্য। তবুও উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রংপুরের নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, জাতীয় উন্নয়নের আলোচনায় অঞ্চলটির সম্ভাবনা যতটা উচ্চারিত হয়, বাস্তব বরাদ্দ ও বিনিয়োগে তার প্রতিফলন সবসময় দেখা যায় না। ফলে কর্মসংস্থানের সন্ধানে বিপুলসংখ্যক তরুণকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছুটতে হয়।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন উন্নয়নের সুফল রাজধানী বা কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র দেশে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে রংপুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কৃষিভিত্তিক শিল্প, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং শিক্ষা-গবেষণায় আরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রংপুর কোনো বিশেষ সুবিধা চায় না; তারা চায় ন্যায্য হিস্যা ও সমান সুযোগ। জাতীয় বাজেট বণ্টন, উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর করা হলে রংপুর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো জরুরি। সেই বিবেচনায় রংপুরের উন্নয়ন শুধু একটি অঞ্চলের দাবি নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রংপুরের মানুষ তাই ইতিহাসের গৌরবের পাশাপাশি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাদের প্রাপ্য সম্মান, সমান সুযোগ এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। সহ-সম্পাদক: মোঃ মাইদুল ইসলাম। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর।
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।