
ব্যুরো প্রধান খুলনা:
বাগেরহাটের রামপালে আলোচিত এখলাস গাজী হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকাবস্থায় মামলার কয়েকজন আসামির পক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তাধীন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত ১ জুন রামপাল উপজেলা সদরের ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্য হামলার শিকার হয়ে নিহত হন এখলাস গাজী (৫২)। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৭ জনকে আসামি করে রামপাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মাহামুদ শিকদার ওরফে মাইজেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।
মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন,
এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজন প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কোনো অপরাধীই আইনের বাইরে থাকবে না। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন,
“হত্যা মামলার তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে গত ৪ জুন রামপাল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাজী অজিয়ার রহমান এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আলমগীর কবির বাচ্চুর নাম হত্যা মামলায় অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
তবে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা এ দাবির সঙ্গে একমত নন। তাদের বক্তব্য, একটি গুরুতর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই আসামিপক্ষের প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাদীপক্ষের কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তদন্তাধীন একটি হত্যা মামলায় এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষেরই এমন অবস্থান গ্রহণ করা উচিত নয়, যা ন্যায়বিচারের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় আইনগত ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পাল্টাপাল্টি অবস্থান, বক্তব্য ও কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দোষীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।