
স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়ন ও ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর, বাগডাঙ্গা এবং পাড়িয়ালি গ্রামের শতাধিক কৃষক কৃষিজমি রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ঘের মালিক মো. এম এ হালিমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, কৃষিজমির ক্ষতি সাধন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে বাহিরঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. এম এ হালিমের কাছে তারা মাছ চাষের উদ্দেশ্যে তাদের কৃষিজমি লিজ দেন। লিজ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরি মৌসুমে জমিতে ধান চাষের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও মাত্র তিন বছর পর থেকেই ওই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমিতে কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বার্ষিক হারির টাকা পরিশোধের সময় বিভিন্ন কাগজে কৌশলে জমির মালিকদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে নতুন মেয়াদের লিজ চুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জমির মালিক এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল মালিকের সম্মতি ও স্বাক্ষর ছাড়াই পুনরায় ঘের পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, নতুন কোনো বৈধ চুক্তি ছাড়াই কৃষিজমিগুলো গভীরভাবে খনন করে পুকুরের মতো রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ও ফসল উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের খাল ও ক্যানেল ভরাট করে দেওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা আশপাশের কৃষকদের কৃষিকাজে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, কম মূল্যে জমি লিজ নিয়ে পরে তা অধিক মূল্যে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকদের লিজ চুক্তির অনুলিপি দেওয়া হয়নি। কৃষিজমির ওপর রাস্তা নির্মাণ এবং ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে পৃথক লিজ চুক্তির মাধ্যমে অনিয়ম ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং মামলা-হামলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা আর এম এ হালিমের কাছে জমি লিজ দিতে আগ্রহী নন এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষিজমির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. এম এ হালিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।