
তারেক আজিজ (কক্সবাজার)
দেশের অপার সম্ভবনাময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে দ্যা কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা রবিবার ৩১ মে সকাল ১১টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দ্যা কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল এসপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ভেজালবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তির ম্যাজিস্ট্রেট মো: রোকন উদ দৌলা।
দ্যা কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু ছৈয়দের সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তারেক ও নাজেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ছৈয়দ আলম, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সানা উল্লাহ, বাংলাদেশ আনসারের উপপরিচালক কমান্ডার আজিম উদ্দিন, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন, , রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির মহাসচিব এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান জিয়া, কে. এম. সাইফুল ইসলাম, আবু হানিফ, মহসিন বাবুল, ইয়াকুব হোসাইন সহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সংগঠনের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এ সময় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ, অ্যাডভোকেট নুর আহম্মদ, মোহাম্মদ ইলিয়াস এবং চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজার দেশের পর্যটন শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এজন্য আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং সেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, বিশেষ করে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই শরণার্থী সমস্যার কারণে পর্যটন শিল্পে পরিবেশগত বিপর্যয়, অতিরিক্ত জনচাপ, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ক্যাম্পগুলোতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও অপহরণের মতো অপরাধের কারণে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে।
সন্ধ্যার পর পর্যটন এলাকায় চলাফেরা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক পর্যটক কক্সবাজার বা টেকনাফ ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন। হোটেল, মোটেল, ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আর্থিক লোকসান গুনতে হয়।
এই সংকট কেবল পর্যটন শিল্পের জন্যই হুমকিস্বরূপ নয়, বরং এটি স্থানীয় জনজীবন ও অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই সমাধান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের মূল পথ বলে বক্তারা বলেন।
বিকেলে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সংগঠনের কার্যক্রম প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। সাধারন সভায় দ্যা কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডেকে নতুন নেতেৃত্বে নিজস্ব ভবনে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আর্ন্তজাতিকমানের দেশের সেরা ক্লাবে পরিণত করতে ক্লাবের সকল সদস্য ও কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
সাধারন সভা শেষে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।