
কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
কুরবানি শুধু রক্ত ঝরানো নয়, এটা তো ঈমানের পরীক্ষা…
ত্যাগের মাঝে লুকিয়ে থাকে রবের ভালোবাসার দীক্ষা।
হালাল পথে চলতে কষ্ট, হারাম পথে সুখ,
সেই টাকাতে কুরবানি আজ ঢেকে রাখে মুখ।
মানুষ দেখে বাহির শুধু, রব দেখেন গোপন অন্তর,
রিয়ার আগুনে নষ্ট আমল জ্বলে সেই অন্তর।
সমাজ যদি কিছু বলে তাই দেই কুরবানির নাম,
লোকের চোখে বড় হতে চাই ভুলি আল্লাহর ধাম।
কার গরু কত দামী হবে প্রতিযোগিতা কার জন্য,
দাম দেখিয়ে সম্মান কিনি অন্তর থাকে শূন্য।
মোটা গরু, বড় আয়োজন, ছবি ওঠে হাজার,
হৃদয় বদলায় না, বাড়ে মনে মিথ্যে অহংকার।
গোসতের স্বাদ নিয়ে শুধু অনেকে করে আশা,
ত্যাগের শিক্ষা ভুলে চায় মিথ্যে ভালোবাসা।
সবার ভাগের গোসত আমার, চলে বারো মাস,
গরিব মানুষের হক মেরে কি থাকে ঈমানের নির্যাস?
কুরবানি তো ত্যাগের শিক্ষা, নয় দুনিয়ার মান,
নফস যদি বেঁচে থাকে ব্যর্থ দুনিয়ার শান।
কুরবানি এক ভালোবাসা, ভাগাভাগির নাম,
গরিব-দুঃখীর মুখের হাসি সবচেয়ে বড় দাম।
তিন ভাগে হয় কুরবানি মানি না সেই কথা,
আত্মীয়-স্বজন ভুলে গিয়ে বাড়াই মনের ব্যথা।
কাউকে দেই, কাউকে বঞ্চিত, ভেঙে যায় সম্পর্ক,
স্বার্থের কাছে হার মেনে যায় ভালোবাসার অর্থ।
গরিব এলে তুচ্ছ করি, দেই না ন্যায্য হক,
নামমাত্র কিছু দিয়ে মিটাই নিজের সখ।
তামাশা আর অপমানেতে কাঁদে কত প্রাণ,
এই কি ধনীর কুরবানির শিক্ষা আর সম্মান?
আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, রক্ত-মাংসের ঢেউ,
তাকওয়া ছাড়া কবুল হবে কি বলো না আমায় কেউ।
যে কুরবানি বদলায় অন্তর, সেই তো আসল দান,
ত্যাগের মাঝেই খুঁজে পাওয়া রহমতের সন্ধান।
মনের পশু কুরবানি হোক যেতে রবের দ্বারে,
তবেই পাড় করবে আমল কঠিন রোজ হাশরে।
মনের পশু জবাই করে নফসের দেওয়াল ভাঙো,
লোক দেখানো বন্দেগি নয় রবের প্রেমে রাঙো।
এসো আবার শুদ্ধ হই, হালাল পথে চলি,
অহংকার ভেঙে মোরা, মানবতার কথা বলি।
তাকওয়ার রঙে রাঙুক আজি সবার হৃদয়খানি,
রবের প্রেমে কবুল হোক আমাদের কুরবানি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। সহ-সম্পাদক: মোঃ মাইদুল ইসলাম। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর।
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।