নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা বা তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নুরুল হক নুর বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি জামায়াতে ইসলামীর বিগত দিনের রাজনৈতিক অবদানকে অস্বীকার করি না। তবে আমি যখন ছাত্র আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়েছি, তখন জামায়াত বা শিবিরের কারও সঙ্গে আমার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ হয়নি বা কোনো আলোচনাও হয়নি।”
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত ফসল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ফুটবল ম্যাচে কেউ হয়তো শেষ ৯ মিনিটে নেমে গোল দিতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারাই একমাত্র সেরা খেলোয়াড়। যারা রাজপথে জীবন দিয়েছে, তারা কোনো ‘কিংস পার্টি’ গঠনের জন্য রক্ত দেয়নি।”
শ্রমমন্ত্রী তার বক্তব্যে আন্দোলনের কঠিন সময়গুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়টা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আন্দোলনের ‘আট দফা’ কর্মসূচি তিনি নিজেই লিখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। নুর জানান, ১৯ জুলাই রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রশংসা করে নুর বলেন, তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফার সংস্কার রূপরেখাই আজকের সরকার বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রিসভায় কাজ করতে গিয়ে তাঁর ভিশন নিবিড়ভাবে অনুভব করা যায়।
বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করার আহ্বান জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটানো এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করা অনুচিত। তিনি আগামী পাঁচ বছর সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। সহ-সম্পাদক: মোঃ মাইদুল ইসলাম। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর।
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।