নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা মারওয়ান বারঘুতির জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বন্দি থাকা এই নেতার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তার আইনজীবীরা। অভিযোগ উঠেছে, নির্জন কুঠুরিতে তার ওপর হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়াসহ প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে কারারক্ষীরা।
হামলার ভয়াবহ বর্ণনা
বারঘুতির আইনজীবী বেন মারমারেলি জানিয়েছেন, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে অন্তত তিনবার এই নেতার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল মধ্য ইসরায়েলের গানোত কারাগারে তাকে প্রচণ্ড মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। গুরুতর আহত হলেও তাকে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ মার্চ। মেগিদ্দো কারাগার থেকে স্থানান্তরের সময় কারারক্ষীরা একটি হিংস্র কুকুর নিয়ে বারঘুতির সেলে প্রবেশ করে। তাকে জোরপূর্বক মেঝেতে শুতে বাধ্য করা হয় এবং কুকুরটি বারবার তার ওপর আক্রমণ চালায়। আইনজীবীর বর্ণনায়, ৬৬ বছর বয়সী এই নেতার ওপর চালানো এসব কর্মকাণ্ড ‘অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’।
‘ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা’ ও বর্তমান পরিস্থিতি
মারওয়ান বারঘুতি ফিলিস্তিনিদের কাছে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা’ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করার অসামান্য ক্ষমতার কারণে তাকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাব্য কান্ডারি মনে করা হয়। ২০০২ সাল থেকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা এই নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবারও শঙ্কিত। গত বছর ইসরায়েলি রক্ষীদের মারধরে তার চারটি পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিকূলতার মাঝেও অদম্য মনোবল
আইনজীবী মারমারেলি দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা বারঘুতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানান, কারাগারের পরিবেশ অত্যন্ত কঠোর। কাঁচের দেয়ালের ওপার থেকে চিৎকার করে কথা বলতে হলেও বারঘুতি এখনো মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় এবং বাইরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সাম্প্রতিক বন্দি বিনিময় আলোচনাতেও উচ্চপ্রোফাইল এই নেতার মুক্তি নিয়ে দরকষাকষি চললেও, ইসরায়েল তাকে মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এই প্রতীককে নিঃশেষ করতেই ইসরায়েল এমন নৃশংস পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। সহ-সম্পাদক: মোঃ মাইদুল ইসলাম। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর।
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।