রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

(ছবি: সংগৃহীত)

​কক্সবাজারের রামুতে মাত্র দুদিনের ব্যবধানে বাবা ও মাকে হারানোর পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও নুরুল ইসলাম। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করলে দীর্ঘ আড়াই মাস পর তাঁরা কারাগার থেকে মুক্ত হন।

​শোকাতুর ও অমানবিক এক অধ্যায় কারাগারে থাকাকালীন গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্ধক্যজনিত কারণে দুই ভাইয়ের মা মোস্তফা খাতুন (৮০) মারা যান। পরদিন হাতকড়া পরা অবস্থায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে হয় তাঁদের। সেই শোক কাটতে না কাটতেই গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাঁদের বাবা নূর আহমদও (৯০) মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন মঙ্গলবার আবারও হাতকড়া পরেই বাবার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন এই দুই ভাই।

​এলাকায় মানবিক আলোচনার ঝড় মায়ের পর বাবার জানাজায় হাতকড়া পরে সন্তানদের অংশ নেওয়ার করুণ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বাবা-মায়ের অন্তিম মুহূর্তে পাশে থাকতে না পারার আফসোস নিয়ে দুই ভাইয়ের এমন জানাজায় অংশগ্রহণের ছবি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তোলে।

​রাজনৈতিক পরিচয় ও পুলিশের বক্তব্য ফরিদুল আলম দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে আদালত সব দিক বিবেচনা করে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

​স্বজনদের স্বস্তি বুধবার বিকেলে দুই ভাই মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরলে স্বজনদের মাঝে এক করুণ ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। শোকের সাগরে নিমজ্জিত পরিবারটি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।

By Md. Rejon Mia

দৈনিক জনকামনা (Daily JonoKamona)-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থ প্রকাশে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *