
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
(ছবি: সংগৃহীত)
বিড়াল মানুষের ঘরে কবে এল এবং কীভাবে পরম আদরের পোষ্য হয়ে উঠল—এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিতর্কে যোগ হলো নতুন এক মোড়। এতদিন গবেষকদের একাংশ মনে করতেন, কৃষিকাজ শুরুর সময় শস্য রক্ষায় ইঁদুর শিকারি হিসেবে বন্য বিড়াল বা বনবিড়ালকেই পোষ মানিয়েছিল মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক ডিএনএ গবেষণা সেই পুরনো তত্ত্বকে প্রায় খারিজ করে দিচ্ছে।
পুরনো তত্ত্ব ও নতুন সংশয়
প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি বড় অংশ দাবি করতেন, প্রায় সাড়ে ৯ হাজার বছর আগে পশ্চিম এশিয়ায় প্রথম বিড়াল পোষা শুরু হয়। ধারণা করা হতো, বন্য বিড়ালরাই মানুষের শস্যের গুদামের ইঁদুর খেতে আসত এবং এভাবেই তারা মানুষের কাছাকাছি আসে। কিন্তু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগার লারসনের নেতৃত্বাধীন নতুন গবেষণা বলছে, এখনকার পোষ্য বিড়ালের পূর্বপুরুষ বন্য বনবিড়াল নয়।
আফ্রিকান যোগসূত্র ও রোমান সাম্রাজ্য
গবেষকেরা ৮৭টি প্রাচীন ও আধুনিক বিড়ালের জিন বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, আজকের গৃহপালিত বিড়াল বা ‘ফেলিস ক্যাটাস’-এর জন্ম উত্তর আফ্রিকায়। এদের পূর্বপুরুষদের সাথে আফ্রিকার বন্য বিড়াল ‘ফেলিস লিবিকা’র মিল অনেক বেশি। বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রায় ২ হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের সময় এই আফ্রিকান প্রজাতির বিড়ালগুলো ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
চীন ও সিল্ক রুটের ইতিহাস
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আনুমানিক ৭৩০ খ্রিস্টাব্দে সিল্ক রুট ধরে বণিকদের সাথে এই পোষ্য বিড়ালরা চীনে প্রবেশ করে। চীনের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে পাওয়া ৫ হাজার বছরের পুরনো হাড় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সে সময় সেখানে এক প্রকার ‘লেপার্ড ক্যাট’ মানুষের সাথে থাকত। কিন্তু তারা কখনই পুরোপুরি পোষ মানেনি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর মানুষের সাথে থেকেও এই লেপার্ড ক্যাটগুলো শেষমেশ বনেই ফিরে গেছে।
মিশরের গুহাচিত্র ও ফারাওদের প্রভাব
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন লোসোসের মতে, প্রাচীন মিশরের সমাধি ও গুহাচিত্রে বিড়ালদের মানুষের সাথে খাবার খেতে বা অলঙ্কার পরা অবস্থায় দেখা যায়। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, উত্তর আফ্রিকায় বিড়ালকে দেবতার মতো শ্রদ্ধা ও যত্ন করা হতো। সম্ভবত সেখান থেকেই আধুনিক বিড়ালের পোষ মানার যাত্রার শুরু। তবে এই রহস্যের পুরোপুরি জট খুলতে আরও ডিএনএ গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
