নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং অন্তত ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজপথে নামছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের নেতারা। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
কেন এই বিক্ষোভ?
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং মা-বোনদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ৩০টি আসনে ভোট গণনায় নজিরবিহীন জালিয়াতি, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা এবং পেন্সিলে ফলাফল লেখার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জোটটি।
৩০ আসনে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা-৬ সহ অন্তত ৩০টি আসনে যেখানে জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, সেখানে আইনি লড়াইয়ে নামবেন তারা। জামায়াত ও শরিক দলগুলোর দাবি, অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের জোর করে বের করে দিয়ে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশের সমালোচনা করে নেতারা জানান, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান না পেলে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
নির্বাচনী সমীকরণ ও ফলাফল
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। জুলাই বিপ্লবের ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করলেও জামায়াত জোটের দাবি, কারচুপি না হলে তাদের আসনের সংখ্যা আরও বাড়ত। আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। সহ-সম্পাদক: মোঃ মাইদুল ইসলাম। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর।
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।