নিজস্ব প্রতিবেদক (যশোর ও খুলনা)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা কেবল দলীয় রাজনীতির বিজয় চাই না, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রকৃত বিজয় চাই।’ আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রতীককে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার অর্থ হলো দেশে আর ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা যাবে না এবং চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি।
গতকাল যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন, যাদের হাতে মা-বোনেরা নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশও নিরাপদ থাকতে পারে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, কোনো অবস্থাতেই নারীদের সম্মানহানি সহ্য করা হবে না এবং ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
একই দিনে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান খুলনার শিল্পাঞ্চল পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, জামায়াত যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারে, তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং খুলনার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। নতুন বাংলাদেশে নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্র ও বাড়িতে পূর্ণ নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, আধুনিক বিমানবন্দর ও সুন্দরবনকে পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলাসহ ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন। এছাড়া খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী তার বক্তব্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে বসবাস করবে।
পৃথক এসব জনসভায় স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপি জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।