নিজস্ব প্রতিবেদক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আর তির্যক মন্তব্য—সব মিলিয়ে সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি মাঠ। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দ্বৈরথ চরমে পৌঁছেছে।
মূলত আসন সমঝোতার কারণে বিএনপি এই আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটের মাঠে নেমেছেন রুমিন ফারহানা। যার ফলে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও নিজেকে ‘গণমানুষের প্রার্থী’ দাবি করে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামগঞ্জ। অন্যদিকে, জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর এবং জোট প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়ায় উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীক না থাকায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, জোটের প্রার্থী হওয়ায় এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। আশুগঞ্জ ও সরাইলের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী গোপনে রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও পেশিশক্তির ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি ভোটারদের আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। তিনি দাবি করেছেন, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের যে সমর্থন তিনি পাচ্ছেন, তাতে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের বিজয় সুনিশ্চিত।
তরুণ ভোটার এবং আঞ্চলিক সমীকরণ এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এডিটর মোঃ মাইদুল ইসলাম। চিফ এডিটর মোঃ রেজন মিয়া। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর। ইমেইল: gunshikha1@gmail.
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।