নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার কেন্দ্রস্থলে প্রকাশ্যে ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন কবি ও সাহিত্যিক এম. কে. জাকির হোসাইন বিপ্লবী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মেট্রোরেলের সিঁড়ির নিচে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। অথচ হামলাকারীকে ‘মানসিক রোগী’ আখ্যা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে একটি টুপি পদদলিত করে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে। বিষয়টি চোখে পড়লে এম. কে. জাকির হোসাইন বিপ্লবী তাকে থামাতে এগিয়ে যান এবং কারণ জানতে চান। তখনই অভিযুক্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধাক্কায় তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন রাস্তায় পড়ে ভেঙে যায়। ফোন তুলতে গেলে আবার আঘাত করা হয়। এতে তার মুখ ও চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে আশপাশের কয়েকজন মানুষ এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরে রাখেন। কাছেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার পর দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্তকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ উল্লেখ করে ছেড়ে দেন এবং আহত কবিকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—প্রকাশ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ও শারীরিক হামলার মতো গুরুতর ঘটনায় কাউকে শুধু মানসিক অসুস্থ আখ্যা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া কি আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ভুক্তভোগীর বক্তব্য যাচাই, চিকিৎসা সহায়তা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়ায়?
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই বলছেন, মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নে সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একজন লেখকের ওপর হামলা এবং পরে অভিযুক্তের দায়মুক্তি সমাজে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এতে শুধু ব্যক্তি নয়, নাগরিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের ধারণাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রেজন মিয়া। সহ-সম্পাদক: মোঃ মাইদুল ইসলাম। লাইব্রেরি: তুফান ইনিস্টিউট। কার্যালয়: মিঠাপুকুর, রংপুর।
© ২০২৬ সময়প্রবাহ। লেখার দায় লেখকের; স্বত্ব কর্তৃপক্ষের। ভুল বা বিতর্কে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।